OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

বয়স্কদের জন্য ডিজাইন ও পরিবেশ

বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের জন্য বাঁধনহীন পরিবেশ

বয়স্কদের জন্য ডিজাইন ও পরিবেশ

বাড়ি নির্মাণ করার যে মাপডন্ড ব্যবহার করা হয় সে গুলো সাধারণ, সুস্থ ও সক্রিয় ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে। কিন্তু আর্কিটেক্ট বা ওই বাড়ির বসবাসকারীরা ভুলে যান যে আজ না হয় কাল তাদের বার্ধক্য আসবে। বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক উন্নতি হয়েছে। এর ফলে আমাদের জীবিত থাকার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই জন্যে বয়স্ক ব্যক্তিদের সংখ্যার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাছে । বিভিন্ন সামাজিক কারণের ফলে তাদের প্রত্যেক কে নিজের কাজ নিজে করতে হয়। এবং এই রকমের বাড়ির ডিজাইন তাদের জন্য সর্বদা বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা শারীরিক কাজ কর্ম করতে অক্ষম হয়ে পড়েন ও অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই দ্রুত তাদের জন্য বাধা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাধার কারণে যেন প্রবীণদের জীবন অসহনীয় না হয়ে ওঠে। তারা যে জীবনের পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।


বাধা মুক্ত আর্কিটেকচারে এমন ভাবে ডিজাইন করার তত্ত্ব থাকবে যাতে প্রবীণদের জন্য কার্যকারী , সুরক্ষিত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়। পরিকল্পনা করার সময় সে সব তত্ত্ব বিবেচনা করতে হবে সেগুলো হল।


  • অ্যাক্সেসিবিলিটি
    বাড়ির পরিবেশ এমন ভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে যুবা, বয়স্ক ইত্যাদি ব্যক্তি সব কিছু সহজে অ্যাক্সেস করতে পারেন।
  • সহজে পৌঁছানো যায়
    যুবা, বয়স্ক ইত্যাদি ব্যক্তিরা যেন সহজে বাড়ির মধ্যে সব কিছু পেতে পারেন।
  • ব্যবহার যোগ্যতা
    পরিবেশের ডিজাইন এমন হবে যা সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। .
  • ওরিয়েন্টেশন
    বাড়ির ডিজাইন এমন হবে, যাতে সবাই অনায়াসে প্রবেশ করতে পারেন । কোন দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় ঘটলে যেন দ্রুত বাড়িটি খালি করে দেওয়া যায়।
  • কার্যকর যোগ্য
    ডিজাইন এমন হবে যাতে প্রবীণরা সহজে নিজের জিনিষ খুঁজে নিতে পারেন
  • নিরাপত্তা
    বাড়ির পরিবেশ এমন ভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে সবাই জীবন বা শারীরিক কোন ঝুঁকি চাড়া চলা ফেরা করতে পারেন।

বাড়ির পরিবেশের ওপর নির্ভর করে একজন বয়স্ক ব্যক্তি স্বাধীন কিংবা একাকীত্ব অনুভব করতে পারেন। তাই বাইরের সাথে সাথে বাড়ির ভিতরেও পরিবেশ বয়স্কদের অনুকূল ডিজাইন করতে হবে। এই রকম ডিজাইন করার ফলে বয়স্ক ব্যক্তি আরও বেশি নিজে কে স্বাধীন মনে করবেন ও পরিবারের সাথে থেকে জীবন উপভোগ করতে পারবেন। এই রকম ভাবে আমারা প্রবীণ সমাজ কে সাহায্য করতে পারবো।


আমদের প্রত্যেকেই আজ না হয় কাল বার্ধক্য আসবে এবং বার্ধক্য অনেক গুলো ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে।


  • প্রাইমারি ফ্যাক্টর
    জেনেটিক ও স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টর, জন্মের সময়ে কোন বিচ্যুতি, পারিবারিক রোগ যেমন মধুমেহর জন্য হাড়, কর্মক্ষমতা, দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • সেকেন্ডারি ফ্যাক্টর
    দুষিত পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মস্থানের জন্য নিশ্বাসের, শোনার ও পোসচারের সমস্যা হতে পারে
  • ফিজিওলজিক্যাল ফ্যাক্টর
    বয়স্ক ব্যক্তিদের কর্মক্ষমতার হ্রাস, চলাফেরায় অসুবিধা, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া, মেটাবলিক সিস্টেম ধীরে হয়ে যাওয়ার ফলে, দৈনন্দিন কাজ কর্মে অসুবিধা দেখা দেয়।
  • সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টর
    অবসর গ্রহণের ফলে আর্থিক রোগারের হ্র্রাস, একাকীত্ব, নিকট আত্মীয় বা বন্ধুদের হারানো ব্যথা ইত্যাদির জন্য প্রবীণদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়

বাধা মুক্ত পরিবেশ ডিজাইনের মূলতত্ত্ব

১. প্রবেশ ও প্রস্থান

কোন বাড়ির প্রবেশ ও প্রস্থান যেন সহজে ব্যবহার করা যায় এবং সেটি যেন দৃশ্যমান থাকে


২. র‍্যাম্প:

র‍্যাম্পের সাহায্যে হুইল চেয়ার বন্দি প্রবীণ ব্যক্তি বা যিনি ওয়াকার কিয়ে হাঁটেন সহজে বাড়িটির মধ্যে প্রবেশ করে ও প্রস্থান করতে পারবেন। এই র‍্যাম্পের গ্র্যাডিয়েন্ট ১:১২ অনুপাতের কম যেন না হয়। কমপক্ষে ১২০ সেন্টিমিটার চওড়া হতে হবে ও দৈর্ঘ্য ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। র‍্যাম্পে হ্যান্ড রেল প্রদান করা থাকে ও উভয় দিকে ১০ সেন্টিমিটার উঁচু চেন লাগানো থাকে


৩. দরজা:

সব দরজা প্রস্থ কমপক্ষে ৮০ সেন্টিমিটার হতে হবে। এর মধ্য দিয়ে যেন হুইল চেয়ার অনায়াসে যেতে আসতে পারে। দরজার সামনে ও ভিতেরে দিকে কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার X 150 সেন্টিমিটার জায়গা থাকতে হবে। দরজা বা জানলা সহজ ব্যবহার্য্য বস্তুর হতে হবে। দরজায় লক লাগানো বা খোলার সময় যেন বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন না হয়। লিভারের মত দরজার হাতল শ্রেয়।


৪. সিঁড়ি:

বাড়ির সিঁড়ির ধাপ যদি ১৫০ সিন্টি উঁচু ও ৩০০ সেন্ট প্রস্থ হয় তাহলে বয়স্ক ব্যক্তি সহজে চড়তে ও নামতে পারবেন। সিঁড়ির দু দিকেই রেলিং প্রদান করতে হবে। বেঁকের দিকে ত্রিকোণ ট্রিড এড়িয়ে যেতে হবে। বেরিয়ে থাকা নোজিং-এর পরিবর্তে ঢালু নোজিং বেশি কার্যকারী। এর ফলে যারা লাঠি নিয়ে হাঁটেন তারা সুবিধা অনুভব করবেন। যতদূর সম্ভব ওপেন রাইজার এড়িয়ে চলতে হবে। সিঁড়ির ধাপ গুলো সমভাবে বিন্যস্ত হওয়া উচিত। বেঁকের দিকে ত্রিকোণ ধাপ এড়িয়ে যান। ছোট ছোট অন্তরালে ল্যান্ডিং প্রদান করা উচিত । সিঁড়িতে ভাল আলোর ব্যবস্থা করা উচিত।

প্যাসেজ:

হাঁটার পথের লেভেল পরিবর্তনে ড্রপ্ড কার্ব থাকেতে হবে। এই হাঁটার পথে যথেষ্ট চওড়া হতে হবে। এর মধ্যে দিয়ে যেন সহজে হুইলচেয়ার চলে যেতে পারে। মাঝে মাঝে হাঁটার পথের প্রস্থ বড় করতে হবে যাতে দুটো হুইলচেয়ার পাস করতে পারে। বয়স্কদের সুবিধার জন্য বাড়ির ভিতের বা বাইরে হাঁটার পথে রেলিং প্রদান করতে হবে।

৬. বাড়ির লেআউট

বাড়িতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এমন করে বাড়ির লেআউট করতে হবে যাতে বয়স্ক ব্যক্তি সহজে ঘোরে ফেরা করতে পারেন ও নিজস্ব কাজগুলো করতে পারেন। বাড়ির কামরাগুলো যদি এলো মেলো ভাবে সাজানো থাকে বা কার্পেট ইত্যাদি যদি ঠিক স্থানে রাখা না থাকে বা আসবাব পত্র সঠিক স্থানে না থাকে , তাহলে প্রবীণ ব্যক্তিদের স্বচ্ছন্দে ঘোরা ফেরা করা সমস্যার হয়ে যাবে। তাদের আঘাত লেগে যেতে পারেন। যথা স্থানে বাথরুমের ব্যবস্থা করতে হবে কারণ বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রস্রাব ইত্যাদি চেপে রাখাতে অসুবিধা হয়।

৭. টয়লেট:

কমপক্ষে বাড়ির একটি টয়লেটের মধ্যে হুইল চেয়ার বা ওয়াকার প্রবেশ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হুইল চেয়ারের মুভমেন্টের জন্য কমপক্ষে ২.২৫ মিটার বর্গ ক্ষেত্র জায়গা থাকতে হবে। জলের বেসিন, প্রস্রাবের স্থান ইত্যাদি জায়গায় ধরার জন্য রেল প্রদান করতে হবে। সাবান তেল ইত্যাদি কে এমন উচ্চতায় রাখতে হবে যাতে হুইলচেয়ারে বসে সেগুলো ব্যবহার করা যায়।টয়লেটের মেঝে নন্-স্লিপ টাইলের হতে হবে।স্নানের জায়গায় রাবরের ম্যাট ব্যবহার করলে পিছলে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

৮. আলো:

প্রতিটি বাড়িতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকা উচিত। জানলায় ঠিক স্থানে শেড প্রদান করতে হবে যাতে দিনের বেলায় রোদের ঝলকানি কে কম করা যায়। রাত্রের দিকে আলো এবং আলো নেই এমন স্থানের কন্ট্রাস্ট যতটা সম্ভব কম থাকতে হবে। কারণ বয়স্ক ব্যক্তিদের অন্ধকার ও আলো এই অবস্থায় দৃষ্টি অ্যাডজাস্ট করতে অসুবিধা হয়। বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডে কন্ট্রাস্ট রঙ্গ ব্যবহার করলে প্রবীণদের দেখতে সুবিধা হবে।

৯. পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা:

বয়স্ক ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। তাই দেওয়াল মসৃণ হলে ধুলো জমতে পারবে না ও তাদের সংক্রামণ জনিত সমস্যা কমে যাবে। দেওয়াল, দরজায় , জানলায় বা আসবাব পত্রের ধারগুলো গোলাকার করে দিলে তাদের আঘাত লাগার সম্ভাবনা কমে যাবে।

১০.অ্যাকোস্টিক্স:

বেশীরভাগ বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। বাড়ির মধ্যে পর্দা, কার্পেট, ইত্যাদি ব্যবহার করলে প্রতিধ্বনি কম করতে সাহায্য করে । এবং এর ফলে প্রবীণরা পরিষ্কার সুনতে পারেন।

১১.সৌন্দর্যতাত্ত্বিক:

বাধা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার সময় এটা মাথায় রাখতে হবে যে এই রকমের ডিজাইন যেন মনোরম, পরিষ্কার ও ভাল করে মেন্টেন করা থাকে। এই রকম পরিবেশে বসবাস করলে প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে বিষাদ কম হয় ।

১২. সারাংশ:

এটা বুঝতে হবে যে বাধা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য এটা জরুরি নয় যে বাড়ি নির্মাণের খরচ অনেক বৃদ্ধি পাবে। বাড়ি তৈরি করার সময় যদি এই ডিজাইন গুলো মেনে চলা হয় তাহলে শেষে আমাদেরই সুবিধা হবে করান এক না এক দিন আমাদেরও বার্ধক্য আসবে।


  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.