OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

বয়স্কদের জন্য ডিজাইন ও পরিবেশ

বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের জন্য বাঁধনহীন পরিবেশ

বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের জন্য বাঁধনহীন পরিবেশ

ভারতবর্ষে প্রবীণ নাগরিকদের উদ্দেশ্য ও তদের যত্নের জন্য কাজ করা জাতীয় স্তরের স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা হল হেল্প এজ ইন্ডিয়া। এই সংস্থা, হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনালের ফোউন্ডার মেম্বার। হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল যুক্ত রাজ্যে প্রবীণদের প্রতিনিধিত্ব করে । হেল্প এজ ইন্ডিয়া , হেল্প দ্যা এজেড, ইউ কে সাথেও যুক্ত। আমাদের পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে হলেন ভারতের পূর্ব রাষ্ট্রপতি শ্রী কে আর নারায়ণ ও শ্রী আর ভেনক্টরমণ। এই সংস্থার গভর্নিং বডি তে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা আছেন যারা এই মহান প্রচেষ্টায় অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। হেল্প এজ ইন্ডিয়া দ্বারা প্রকাশিত এই বইটি বৃদ্ধাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা বিসয়ে তথ্য ও পথনির্দেশ প্রদান করে

চিকিৎসাশাস্ত্রে উন্নতির সাথে সাথে আমাদের জীবন কাল বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ প্রায় সব মানুষই ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। এর মানে হল কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর কমপক্ষে ২০ বছর পর্যন্ত কোন ব্যক্তি কে বার্ধক্যকালের সব রকমের সমস্যা, মানসিক, শারীরিক সম্মুখীন হতে হবে। তাই এই সময়ে সুস্থ ও স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারা খুব সম্মানের। বাড়ির ভিতরের ও চারপাশের পরিবেশ কে যদি তাদের প্রয়োজনের অনুরূপ তৈরি করা যায়, তা হলে তারা স্বচ্ছন্দের সাথে বসবাস করতে পারবেন। এবং বৃদ্ধাশ্রমের প্রদান করার যত্নের জন্য তাদের যেতে হবে না। এখানে আমরা এই রকমে কিছু পরামর্শ প্রদান করছি যা বাড়ির পরিবেশে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক. প্রবেশ

জীবনে আজ না হয় কাল ,অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে আপনি অস্থায়ীভাবে বা স্থায়ী ভাবে অক্ষম হয়ে যেতে পারেন





আপনাকে হয়তো হুইল চেয়ার বা ওয়াকার ব্যবহার করতে হতে পারে। তাই বাড়ির প্রবেশে র‍্যাম্প থাকা বাঞ্ছনীয়। এই র‍্যাম্পের ঢাল ১:১২ অনুপাতে হওয়া উচিত



খ. সিঁড়ি



যতদূর সম্ভব আপনার নিচের তলায় বসবাস করা উচিত। বাড়ির যুবকের ওপরের তলায় বসবাস করতে পারেন। যদি কোন কারণে আপনাকে ওপরের তলায় বসবাস করতে হয় তাহলে ধিরস্থির ভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করবেন। আপনি যদি সুস্থ থাকেন , তাহলে এইটি খুব ভাল ব্যায়াম। সিঁড়িতে ওঠার সময় সবসময় হাতল ধরে উঠবেন। সিঁড়ির মেঝে যেন পিছলে যাওয়া বস্তু দিয়ে তৈরি না হয়।



নিচের চিত্রে যেমন দেওয়া আছে, প্রতিটি ধাপের ধারে স্ট্রিপ লাগানো নোজিং থাকা উচিত। বেরিয়ে থাকা নোজিং-এর পরিবর্তে ঢালু নোজিং বেশি কার্যকারী। এর ফলে যারা লাঠি নিয়ে হাঁটেন তারা সুবিধা অনুভব করবেন। যতদূর সম্ভব ওপেন রাইজার এড়িয়ে চলতে হবে। সিঁড়ির ধাপ গুলো সমভাবে বিন্যস্ত হওয়া উচিত। বেঁকের দিকে ত্রিকোণ ধাপ এড়িয়ে যান। ছোট ছোট অন্তরালে ল্যান্ডিং প্রদান করা উচিত । সিঁড়িতে ভাল আলোর ব্যবস্থা করা উচিত।



সিঁড়ির প্রথম ও শেষ ধাপ, রঙ্গ দিয়ে চিহ্নিত করা উচিত। এর ফলে সিঁড়ি চড়তে সুবিধা হবে।


বারান্দা বা করিডর



বাড়ির ভিতরের করিডর বা প্যাসেজে বা বাগানের ভিতরের রাস্তা কোন ভাবে যেন ডাস্টবিন, ফুলের টব ইত্যাদি এলোমেলো অবস্থায় না রাখা থাকে। পাইপ বা কলাম যাতিয় বস্তু যেন পড়ে না থাকে। এই সব সাবধানতা প্রয়োগ করলে আপনি আপনার বাড়িতে স্বচ্ছন্দ ও স্বাধীন অনুভব করতে পারেন ও নিত্য দিনের কাজ সহজে করতে পারবেন। আপনাকে কর্মপরায়ণ থাকতে উৎসাহিত করবে।


বাথরুম

বয়স্ক মানুষরা প্রায়ই বাথরুমে পড়ে যান। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সেই খানকার মেঝেতে জল পড়ে থাকে ও তাই পেছল হয়ে যায়। এই মেঝে তে অ্যান্টি স্কিড টাই ব্যবহার করতে হয়ে। বাথরুম কে যতটা সম্ভব শুকনো রাখতে হবে। আপনি রবারের আরামদায়ক চটি ব্যবহার করবেন। এতে পিছলে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে। বাথরুমে ৫০ মি মি স্টিল বার লাগানো যেতে পারে।



এর ফলে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বাথরুম ব্যবহার করতে পারেন। আপনি কমোড ব্যবহারের অভ্যাস করতে পারেন। আপনাদের বেশির ভাগদের হাঁটুর সমস্যা থাকে । তাই কমোড ব্যবহার করলে আরাম অনুভব করবেন।



আসবাবপত্র


বাড়ির ভিতরের আসবাবপত্র খুব সাধারণ হওয়া উচিত। এগুলো যেন এলোমেলো ভাবে সাজানো না থাকে। এর ফলে সহজে ঘোরা ফেরা করা যাবে। আপনি আত্মবিশ্বাসী অনুভব করবেন ও দৈনন্দিন কাজ করার জন্য আপনি উৎসাহ অনুভব করবেন।



আসবাবপত্র আরামদায়ক হওয়া উচিত। বসার চেয়ার খুব নিচু যেন না হয় , না হলে আপনি বসে উঠতে অসুবিধা অনুভব করবেন। বসে উঠতে গিয়ে অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হবে।


আলো



আপনাদের বেশিরভাগ ব্যক্তির চোখের দৃষ্টি হ্রাস হয়। জরালও আলো তে আপনাদের অসুবিধা হবে। আপনাদের চোখের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার জন্য আলো থেকে অন্ধকারে বা বিপরীত অবস্থায় দৃষ্টি সঠিক রাখতে আপনাদের সমস্যা হবে। তাই সুর্ষ্যের বা অন্য কৃত্রিম আলোর জোরালো ভাব ষতটা সম্ভব কম করার ব্যবস্থা করা উচিত।


বৈদ্যুতিক সুইচ সুবিধাজনক স্থানে হওয়া উচিত এবং এর রঙ্গ দেওয়ালের রঙ্গের সাথে কন্ট্রাস্ট হওয়া উচিত যাতে সহজে আপনি দেখে ব্যবহার করতে পারেন। বাড়ির ভিতরের করিডর বা বাইরের হাঁটার পথ কন্ট্রাস্ট রঙ্গের হলে আপনি আত্মবিশ্বাসের সাথে চলা ফেরা করতে পারবেন।



অ্যাক্সটিক্স

আপনাদের অনেকেরই শ্রবণ ক্ষিতির কমে যায়। পরিষ্কার ভাবে অন্যের কথা শোনাতে সমস্যা দেখা দেয়। খুব সাধারণ পদ্ধতি ঘরের মধ্যে অ্যাক্সটিক্স কে পরিবর্তন দরা যেতে পারে। শব্দ শুষে নেয় এমন উপহোস্ট্রি, কার্পেট, ইত্যাদি ব্যবহার করে শব্দের প্রতিধ্বনি কম করা যেতে পারে। এর ফলে সাধারণ কথাবর্তা পরিষ্কার করে শোনা যায়।




রক্ষণাবেক্ষণ:

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। তাই চার পাশের পরিবেশ কে যত সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির ভিতরের দেওয়াল গুলো যেন মসৃণ হয়। দেওয়াল মসৃণ করার জন্য প্লাস্টার অফ প্যারিস ব্যবহার করা যেতে পারে। মসৃণ দেওয়ালের ফলে ধুলো জমবেনা ও মাকড়সার জাল ও হবে না। এই মসৃণ দেওয়ালের ফলে ঘসা লেগে আপনার ত্বকের কোন ক্ষতি হবে না।


সৌন্দর্যতাত্ত্বিক

আপনরা প্রায় প্রত্যেকেই পারিবারিক কারণ বা দুর্বল শরীরের জন্য একাকীত্ব ও বিষাদে ভোগেন। তাই আপনার চারপাশটা যদি সৌন্দর্যতাত্ত্বিকের সাথে সাজানো থাকে তাহলে আপনার মানসিক প্রফুল্ল বেড়ে যাবে। কোন জানালায় বা বারান্দায় দাড়িয়ে আপনি বাইরের জগত কে দেখতে পারবেন। সেই রকম বাড়ির কোন নির্দিষ্ট স্থান থেকে আপনি আপনার নাতি নাতনির কার্যকলাপ দেখতে পারবেন তাদের বিরক্ত না করে।


নিরাপত্তা ও সুরক্ষা

চুরি বা ডাকাতি থেকে প্রবীণদের রক্ষা করতে হবে। বাড়ি ভিতরে প্রবেশের পথ কমিয়ে দিয়ে আপনি আগন্তুকের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কখনও কোন সেলস ম্যান বা সঠিক পরিচয় চাড়া অন্য ব্যক্তি কে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে দেবেন না। দরজার একটা পীপ হোল ও চেন ও ল্যাচ সিস্টাম লাগাতে হবে। উন্নত মানে অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম ও স্থাপন করা যেতে পারে।


কমপক্ষে প্রবীণের ঘরে বা টয়লেটে একটা আপৎকালিন অবস্থায় কল করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যেমন টেলিফোন, প্রতিবেশী কে ডাকার অ্যালর্ম, ইন্টারকম ইত্যাদি)। আপনাদের বেশির ভাগ মানুষের ঘ্রাণ শক্তি কমে যায় । তাই বাড়িতে সঠিক ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভাল মানে বৈদ্যুতিক তার ও সরজ্ঞাম ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির ভিতেরে অসবাবপত্র অগ্নি বিরোধক বস্তুর হতে হবে। এর ফলে কোন আপৎকালিন অবস্থায় অগ্নি ছড়িয়ে পড়ার আগে বেরিয়ে আসা যায়।


বয়স্ক মানুষরা প্রায় ভুলে যাওয়ার সমস্যা ভোগেন। তাই সে সব প্রবীণরা একলা বসবাস করেন তাদের জন্য একটা চেকলিস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন শুতে যাবার আগে দরজা বন্ধ করা, জানাল বন্ধ করা বা আলমারি ইত্যাদি বন্ধ করা


এই শৃঙ্খলায় অন্য বই

  • বার্ধক্যে মধুমেহ

  • কি করে দাঁত বজায় রাখবেন

  • পর্কিন্সন রোগ

  • প্রবীণ মহিলাদের প্রসবের সমস্যা

  • প্রবীণদের জন্য পথ্য

  • স্বাস্থকররূপে বার্ধক্য

  • বার্ধক্যেকালে ভালো দৃষ্টি

  • পরবর্তী জীবনে কি করে আনন্দ উপভোগ করবেন

  • উচ্চ রক্ত চাপ

  • আর্থেরাইটিস-প্রয়াসই জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন

  • প্রোস্টেটের রোগ

  • প্রবীণদের জন্য বাধামুক্ত পরিবেশ

  • ওস্টিওপোরেসিস- আপনি ও আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য

  • মেডিটেশনের ক্ষমতা

  • বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ

  • কি করে নিজের উইল তৈরি করবেন


এই পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে সাহায্য করেছেন ডা কিরণ সোহাল, বিশেষজ্ঞ, প্রতিরোধ মুক্ত পরিবেশের আর্কিটেক্চারল হেল্প এজ ইন্ডিয়া তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।

সম্পাদনা করেছেন ডা: শুভা সোনেজা, আর & ডি প্রধান, হেল্প এজ ইন্ডিয়া
(লিখিত অনুমতি ছাড়া কোন ভাবেই কোন অংশ কে পুনরায় লেখা বা কপি করা যাবেনা)

হেল্প এজ ইন্ডিয়া, সি-১৪, কুতুব ইন্সটিটিউশনাল এরিয়া, নতুন দিল্লি-১৬, ফোন: ৪১৬৮৮৯৫৫-৫৬, ফ্যাক্স: ২৬৮৫২৯১৬
ল্‌গ অন করুনhttp://www.helpageindia.org/.E-Mail:helpage@nde.vsnl.net.in

নোট: এই বইটি প্রদান করে সাহায্য করার জন্য ওল্ড এজ সলিউশন, হেল্প এজ ইন্ডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞ

  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.