OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences


বয়স্কদের জন্য কারিগরি ইন্টারভেন্শন



বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য প্রকল্প



জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্প



অন্নপূর্ণা স্কিম



বিনামূল্যে আইনি সাহায্য



ছাড়



ছাড় এবং অন্যান্য ইনসেন্টিভ



মেডিক্লেম/ স্বাস্থ্য বীমা



স্বাস্থ্য সুবিধা (এইচএআই)



বেসরকারি ও স্বৈচ্ছিক সংগঠন



বিভিন্ন



বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় নীত

বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় নীতি

ডেমোগ্ররাফিক ট্রেন্ড
  • জনতাত্বিক বার্ধক্য , একটি বিশ্বব্যাপী বিষয় , এবং ভারতবর্ষ তার থেকে বাঞ্ছিত নয়। মানুষ বেশি দিন বাঁচছেন।আমাদের দেশে ১৯৫১-৬০-এ পুরুষদের জীবিত থাকের সম্ভাবনা ছিল ৪২ বছর যা ১৯৮৬-৯০-এ বেড়ে হয় ৫৮ এবং ২০১১-১৬-এ ৬৭ বছর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত ২৫ বছরে প্রায় ৯ বছর বেড়েছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে একই সময় প্রায় ১১ বছর বেড়েছে। ১৯৫৬-৯০-এ তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা ছিল ৫৮ বছর যা ২০১১-১৬ বেড়ে হতে পারে ৬৯ বছর।
  • জীবিত থাকার সময় বৃদ্ধির ফলে , ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০১ সনে যেখানে ১.২ কোটি ৬০ ঊর্ধ্বের মানুষ বসবাস করতেন, এখন ১৯৫১ সনে সেটি বেড়ে হয়ে ২.০ কোটি এবং ১৯৯১ সনে বেড়ে হয়েছে ৫.৭ কোটি। ১৯৯৬-২০১৬ -এর জন্য জনসংখ্যা প্রজেকশনের (১৯৯৬) টেকনিক্যাল গ্রুপ জানিয়েছেন যে ২০১৩ তে এই সংখ্যা হয়ে ১০ কোটিৱ। যুক্ত রাষ্ট্রের প্রজেকশন অনুযায়ী ২০৩০ সালে ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা হবে ১৯.৮ কোটি এবং ২০৫০ তা গিয়ে দাঁড়াবে ৩২.৬ কোটি। মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যার ১৯০১-৫০১ % থকে বেড়ে ১৯৯১-তে ৬.৮ % হয়েছে এবং ২০১৬ তে এটা ৮.৯% হতে পারে। এবং যুক্ত রাষ্ট্রের প্রজেকশন অনুযায়ী ২০৫০ মধ্যে এইটি ২১% হবে
  • ২০০১-২০১১ দশকে ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা ২.৫ কোটি বেড়েছে যা ১৯৬১ সালের ৬০ ঊর্ধ্বের মানুষের সংখ্যার সমান। ১৯৯১-২০১৬-এই ২৫ বছর সময়ে মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যার ৫.৫ কোটি বৃদ্ধি পাবে যা ১৯৯১-এর ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যার সমান। অন্য ভাবে বলতে গেলে ২৫ বছরের মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা দুগুণ হয়ে যাবে।
  • ১৯৯১ সালে(৩.৬ কোটি) ৬০-৬৯ বয়সের গ্রুপে ৬৩% সংখ্যক মানুষ ছিলেন। যাদের কে যুবক প্রৌড় বলা হয় এবং ১১ % (০৬ কোটি) মানুষ ৮০ ঊর্ধ্বে ছিলনে অর্থাত বয়স্ক প্রৌঢ়। ২০১৬ এই দু গ্রুপের শতকরা হিসাব একই থাকবে কিন্তু সংখ্যা বেড়ে হবে ৬.৯ কোটি ও ১.১ কোটি। অন্য ভাবে মোট জনসংখ্যার ৬/১০ ভাগ মানুষ ৬০-৬৯ বছরে হবেন যারা ভাল মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অধিকারী। যাদের গম্ভীর কোন অক্ষমতা থাকে না ও সক্রিয় জীবন কাটাতে পারেন। জনসংখ্যার ১/৩ অংশ ৭০-৭৯ বছর গ্রুপে। তারাও ভাল সক্রিয় জীবন যাপন করেন। তার মানে আমাদের কাছে মানব সম্পদের একটা বিশাল সম্ভার।
  • ৬০ বছর বয়সের পরেও , ভারতবর্ষে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের সংখ্যা বেশি (২.৯ কোটি পুরুষ এবং ২.৭ কোটি মহিলা -১৯৯১, ৬০ ঊর্ধ্বে)। ২০১৬-তেও একই রকম থাকবে (৫.৭ কোটি পুরুষ এবং ৫.৬ কোটি মহিলা ৬০ ঊর্ধ্বে)
  • ৬০ ঊর্ধ্বে মহিলাদের মধ্যে বিধবার সংখ্যাও বেশি, কারণ মহিলাদের সাধারণত বয়সের বড় পুরুষদের সাথে বিয়ে হয়; তারা পুনঃ বিবাহ করেন না এবং বেশি দিন বাঁচেন। ১৯৯১ সালে ১.৫ কোটি মহিলা বিধবা ছিলেন এবং ৪৫ লাখ পুরুষ বিধবা ছিলেন। মানে মহিলা বিধবা , পুরুষ বিধবার তুলনায় ৪ গুন বেশ

তাৎপর্য
  • জনত্বাতিক বার্ধক্যের তাৎপর্য বৃহৎ স্তরের সাথে সাথে ছোট পরিবারেও আছে। এই বিশাল সংখ্যা বড় মানব সম্পদের দিকে উল্লেখ করার সাথে সাথে এটাও করে যে এই সব মানুষদের সামাজিক পরিষেবা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা কত বড় একটা কর্মকাণ্ড হবে।
  • জনত্বাতিক পরিবর্তনের সাথে সমাজ ও অর্থনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাব পজিটিভ কিন্তু কিছু উদ্বেগের ও ক্ষেত্র আছে।
  • আগামী দশকে ৬০ ঊর্ধ্বে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বেশিরভাগ মধ্যে ও উচ্চ উপার্জন গ্রুপের হবেন। এরা আর্থিক দিক দিয়ে অনেক বেশি সচ্ছল ও সুরক্ষিত হবেন। এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাত্রায় হবেন ও তারা সক্রিয় জীবনের অধিকারী হবেন। তাদের মানসিকতা খুব ইতিবাচক হবে এবং সক্রিয়, সৃজনশীল ও সন্তুষ্টিকর জীবন যাপন করার সুযোগ খুঁজবেন।
  • উদ্বেগের ক্ষেত্রের মধ্যে হল প্রবীণদের বসবাস করা আবাসের সঙ্কট। যদিও এটা সত্য যে ভারতে পারিবারিক বন্ধন খুব শক্তিশালী এবং বেশিরভাগ মানুষ তাদের পুত্রের সাথে থাকেন। এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উপার্জন করার পরিস্থিতি তে বাড়িতে বয়স্ক পিতামাতার উপস্থিতি অনেক সুবিধা এনে দেয় যেমন বাড়ির ও শিশুদের দেখা শোনা ইত্যাদি। কিন্তু অনেক কারণের জন্য , এক বড় সংখ্যক প্রৌড় ব্যেক্তি এটা সুনিশ্চিত করতে পারেন না যে তারা তাদের সন্তানদের সাথে থাকতে পারবেন ও তাদের প্রয়োজনীয় যত্ন উপলব্ধ হবে।
  • শ্রমশিল্পের বিকাশ, নগারয়ন,শিক্ষা ও উন্নত দেশে জীবন শৈলীর বিষয়ে জ্ঞান আমাদের মূল্যবোধ ও জীবন শৈলীতে প্রভাব ফেলছে ও পরিবর্তন নিয়ে আসছে। ক্রমবর্ধমান সাংসারিক খরচ , শিশুদের পড়াশোনার খরচ ও নিজস্ব চাহিদা মেটানোর খরচের চাপে পিতামাতার যত্নের জন্য ধার্য নির্দিষ্ট খরচের ভাগ কমে যাচ্ছে।বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে গ্রামাঞ্চল থেকে নগরের দিকে চলে যাচ্ছেন। নগর অঞ্চলে থাকার ঘরের বেশি ভাড়ার জন্য তারা পিতা মাতা কে বাড়িতে রেখে আসতে বাধ্য হন। মহিলাদের ভূমিকা পরিবর্তন, চাকরি জীবনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি ফলে প্রৌড়দের যত্ন প্রদান করার সময় কমে যাচ্ছে। আজকাল বহু পরিবার ছোট পরিবার গড়ার দিকে ঝুঁকছেন, এর ফলে প্রবীণদের যত্ন প্রদানকারী ব্যক্তির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আজকাল মেয়েরাও পূর্ণ ভাবে ব্যস্ত তাদের লেখাপড়া বা চাকরি নিয়ে।

ম্যান্ডেট
  • ভারতীয় সংবিধানে বয়স্ক ব্যক্তিদের ভাল জীবনের জন্য নির্দেশ দেওয়া আছে। ডায়রেক্টিভ প্রিন্সিপাল অফ স্টেট পলিসির, অর্টিক্যাল ৪১,বলা আছে যে সরকার নিজের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও উন্নয়নের মধ্যে , বার্ধক্য কালের মানুষদের জন্য সহায়তা প্রদান করার কার্যকর ব্যবস্থা করবেন। এর অতিরিক্ত দুটি প্রাবধান আছে যা সরকার কে নির্দেশ দেয় তার নাগরিকদের জীবনে মান উন্নত করার জন্য। সংবিধানের অন্তর্গতে রাইট টু ইকুয়ালিটি প্রদান করা হয়েছে। এটি প্রবীণদের জন্যেও প্রযোজ্য। সামাজিক সুরক্ষা কে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়েরই দায়িত্ব করা হয়েছে।
  • গত দু দশক ধরে এই প্রৌড় ব্যেক্তিদের ওপর জনত্বাতিক পরিবর্তনের প্রভাব ও সমাজ এবং অর্থনীতির পরিবর্তন অবস্থার বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়ে গেছে। ১৯৯১ সনে ইউনাইটেড নেশন সাধারণ সভায়, দ্যা ইউনাইটেড নেশনস প্রিনসিপল্স ফর ওলডার পার্সন গ্রহণ করা হয়েছিল। এবং ১৯৯২ -র সাধারণ সভায়, দ্যা প্রোক্লামেশন অন্য এজিং অ্যান্ড গ্লোবাল টার্গেট অন্য এগিং ফর ২০০১ গ্রহণ করা হয়েছিল। এর অতিরিক্ত অন্যান্য প্রস্তাব ও সময় সময় গ্রহণ করা হয়েছে যাতে সরকার এই বিষয়ে তাদের নিজেদের নীতি ও কর্মসূচী তৈরি করে।
  • বহুবছর ধরে প্রবীণদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা নীতি গত অবস্থানের চাহিদা ছিল যাতে তারা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে না ভোগেন এবং জাতীয় পরিপেক্ষেতি তাদের কোথায় দারিয়ে সেটা জানতে পারেন। এই চাহিদা বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে, যেখানে বার্ধক্য নিয়ে আলোচনা হয়, প্রকাশ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল পলিসি স্টেটমেন্ট
  • জাতীয় নীতি প্রবীণ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের উদ্বেগের বিষয় গুলো জাতীয় উদ্বেগের বিসয় এবং তারা অসংরক্ষিত, অবহেলিত ও প্রান্তিক জীবন যাপন করবেন না। জাতীয় নীতির মুল লক্ষ্য হল প্রৌড়ব্যক্তিদের কল্যানমুলক জীবন প্রদান করা। সমাজে তাদের বৈধ স্থান কে শক্তিশালী করা ও শেষ পর্যায়ে তাদের জীবন কে উদ্দেশ্যপূর্ণ, সম্মানযোগ্য ও শান্তিময় করা।
  • এই পলিসি দুরদর্শিতা প্রদান করে যে সরকার প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আবাসন, কল্যাণ ও তাদের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করবেন ও নির্যাতন, অপমান ইত্যাদি থকে রক্ষা খরবে। এর সাথে তাদের উন্নতি করার সুযোগ প্রদান করবনে, তাদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করবে ও যাতে তারা তাদের জীবনের মান উন্নতি করতে পারেন, সেই রকম পরিষেবা প্রদান করবে। এই পলিসি কিছু মূলতত্ত্বের ওপর আধারিত।
  • প্রবীণদের প্রতি দৃঢ় অ্যাকশনের প্রয়োজন বিষয়টি স্বীকৃতি দেয়। এটা সুনিশ্চিত করতে হবে যে তাদের অধিকার কখনও উলঙ্গঘন না হয় এবং তারা যেন উন্নয়নের সমান সুবিধা পান। প্রসাশনীক কাজ কর্ম যেন গ্রামাঞ্চলে বসবাস করা বয়স্কদের প্রতি সংবেদনশীল হয়। মহিলা প্রবীণদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে যাতে লিঙ্গ, বিধবা অবস্থা ও বয়সের জন্য অবেহেলা ও বৈষম্যের শিকার না হন।
  • এই নীতি জীবনচক্র কে একটি সন্ততি হিসাবে দেখে ও ৬০ ওপরে জীবন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।৬০ এর বয়স কে কাট অফ হিসাবে গণ্য করে না যেখান থেকে জীবন পরনির্ভরশীল হয়ে যায়। এটা মনে করে যে 60 + একটি ফেজ যেখানে একজন ব্যক্তির কাছে সুযোগ থাকা উচিত যাতে সে সক্রিয়, সৃষ্টিশীল, উৎপাদনশীল এবং সন্তুষ্টি জীবন যাপন করতে পারে। তাই শুধু যত্ন ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তির সক্রিয় এবং উৎপাদনশীল জীবনের প্রতি এই নিতির মুল অগ্রাধিকার।
  • বয়স সমৃদ্ধ সমাজ কে এই পলিসি মান্যতা প্রদান করে। বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষদের মধ্যে একাঙ্গীকরণ কে সুদৃঢ় করতে চাব। উভয় দিকে যাতে আলাপ আলোচনা হয়, যুবা ও প্রবীণদের মধ্যে সম্পর্ক যেন সুদৃঢ় হয়। এই পলিসি বিশ্বাস করে সামাজিক সহায়ক পদ্ধতি উন্নত হোক যাতে প্রবীণদের দেখাশোনা করার জন্য পরিবারের ক্ষমতা বৃদ্ধি হয় এবং তারা যেন পরিবারে মধ্যেই থাকতে পারেন।
  • এই পলিসি বিশ্বাস করে যে বয়স্ক ব্যক্তিরাও মানব সম্পদ। তারা পরিবারে মধ্যে ও বাইরে উপকারী পরিষেবা প্রদান করতে পারে। তারা শুধু বস্তু ও পরিষেবার গ্রাহকই নন, তারা এই গুলো প্রদান ও করেন। সেই রকম সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করতে হবে যাতে তারা উপকারী পরিষেবা প্রদান করে যেতে পারেন ও পরিবার এবং সমাজের উন্নয়নে সহায়ক হতে পরেন:
  • এই পলিসি প্রবীণদের ক্ষমতা প্রদানে বিশ্বাসী, যাতে তারা নিজেদের জীবনের ওপর ভাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ও নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন। এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টির প্রভাব অনেক বিস্তৃত কারণ তারা একত্রে ১২% ভোট দাতা। এবং এই পরিমাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • এই পলিসি মনে করে যে সরকার থেকে আরও বেশি অর্থ বণ্টনের প্রয়োজন আছে এবং গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চল, উভয় দরিদ্র ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তবে এই জাতীয় নীতি বাস্তবায়িত করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতি জন, পরিবার, সমাজ, বুদ্ধিজিবি সমাজের সদস্যদের এক সাথে কাজ করতে হবে।
  • প্রবীণদের জন্য সোসাল ও সামাজিক পরিষেবা বিস্তৃত করার প্রয়োজনের ওপর এই পলিসি জোর দেয়। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য। সামাজিক-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক প্রতিরোধ কে সরিয়ে তাদের অধিগম্য বৃদ্ধি করতে হবে এবং পরিষেবা কে ক্লায়েন্ট ওরিয়েন্টেড ও ইউজার ফ্রেন্ডলি করতে হবে। বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে গ্রামাঞ্চলে বৃদ্ধ ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ ভাবে সুরক্ষিত হন।

আর্থিক সুরক্ষা
  • আর্থিক সুরক্ষা বয়সকালে খুব উদ্বেগের বিষয়। ১৯৩-৯৪ বর্ষে পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে থাকেন ও এক তৃতীয়াংশ ঠিক তার ওপরে কিন্তু নিম্ন উপার্জন শ্রেণীতে। এর মানে হলে যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ৬০ ঊর্ধ্বে মানুষ আছেন যাদের অর্থিত অবস্থা খুব মজবুত নয়। তাই তাদের কিছু আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা কাজ অগ্রাধিকার পাবে। পলিসি ইন্সট্রুমেন্ট তৈরি করা হবে বিভিন্ন উপার্জন শ্রেণীর মানুষ কে কভার করার জন্য।
  • দরিদ্র সীমার নিচের মানুষদের পেনশন প্রদান কিছুটা তাদের সাহায্য করে।বৃদ্ধিকালে পেনশনের প্রসার কে জানুয়ারি ১৯৯৭-এর ২৯.৬ লাখ সংখ্যা থেকে বাড়ানো হবে ও সর্বশেষ লক্ষ্য হবে দরিদ্র সীমা নীচে সকল মানুষ কে এর আয়তয় নিয়ে আসতে। মাসিক পেনশনের হার কে মাঝে মাঝে পুনঃপরিক্ষা করা হবে, যাতে মুদ্রাস্ফীতি এর ক্রয়ক্ষমতা কে নামিয়ে না দেয়। একই সময় দরিদ্র সীমার নীচে ৬০ + সব ব্যক্তি কে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের অন্তর্গতে নিয়ে আসা হবে
  • সরকারি, আধা সরকারি ও কারখানার শ্রমিক তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমা অর্থের ভাল রিটার্নের আশা রাখেন। এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কে বুদ্ধিমত সুরক্ষিত ভাবে বিনিয়োগ করা হয়। এইখানে সব রকমের সমস্যা কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এটা সুনিশ্চিত করতে হবে যে অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন এমন ব্যক্তিদের প্রশাসনিক কারণে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাটুইটি ও অন্যান্য অবসরগ্রহণের সুবিধা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হয়। কোন রকমের দেরি হলে কেরি হওয়ার কারণ অন্বেষণ করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ দ্রুত, ন্যায্য ও সংবেদনশীলতার সাথে হ্যান্ডল করা হবে। বিধবা দের তাদের প্রয়াত স্বামীর অ্যাকাউন্ট সেটেল করার বিষয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।
  • আর্থিক সুরক্ষা স্কিমের মধ্যে পেনশন অন্যতম। পেনশনের আওতা কে আরও বড়ো করতে হবে। সরকারি বা বে সরকারি সংস্থায় পেনশন কে এমন করে সাজাতে হবে, যেখানে নিয়োগকর্তাও কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। যে কোন পেনশন স্কিমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে সম্পূর্ণ সুরক্তা, ফ্লেক্সিবিলিটি, সহজে অর্থ পাওয়া যায় ও রিটার্ন যাতে সর্বোচ্চ হয়। কোন নিয়ামক অধিকারী অধীনে এই পেনশন ফান্ডগুলো কাজ করবে যারা বিনিয়োগের নিয়মকানুন ঠিক করে দেবেন ও শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করবেন।
  • কর নিতির মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিদের আর্থিক সমস্যার প্রতি সংবেদনশীলতা বোঝা যায়। ক্রমবর্ধমান মেডিকেল খরচা, যাতায়াত খরচা ও সাপোর্ট পরিষেবা খরচার জন্য প্রবীণদের আর্থিক পরিস্থিতি সমস্যাবহুল হয়। প্রবীণদের অনেক সংস্থা বহু দিন ধরে দাবি করে আসছেন উচ্চ মাত্রায় তাদের প্রতি ডেডিকেশন, চিকিৎসা জনিত খরচায় ছাড়, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের নিয়োগকর্তা থেকে কোন রকমের চিকিৎসা জনিত সাহায্য পান না। এমন ও দাবি আছে যে ছেলে-মেয়ে যাদের সাথে তাদের বয়স্ক পিতা মাতা থাকেন তাদের করে ও মেডিকেল খরচায় কিছু ছাড় দেবার জন্য। এই গুলো ও অন্যান্য করে ছাড় বিষয় গুলো বিবেচনা করা হবে।
  • দীর্ঘমেয়াদি সেভিং-এর প্রকল্প চালু করা হবে যাতে শহর ও গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায়। বিনিয়োগকারীরা যেন আস্বস্থ্য হন যে তাদের বিয়োগ করা অর্থের ভাল রিটার্ন পাওয়া যাবে । এর ফলে মানুষ তার কর্ম জীবনে সেভিং করার জন্য উৎসাহিত হবেন যা তাদের বৃদ্ধা বয়সে কাজে লাগে
  • অবসর নেওয়ার আগে কাউন্সেলিং প্রমোট করা হবে ও সহায়তা প্রদান করা হবে
  • অবসর নেওয়ার পর রোজগার জনিত কাজে অংশগ্রহণ করা প্রতি ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। যে সব সংস্থা কেরিয়ের বিষয়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে তাদের সহায়তা প্রদান করা হবে। আর্থিক উপার্জনে বেসরকারি সংস্থার প্রোগ্রামগুলো সহায়তা প্রদান করা হবে। বয়স সংক্রান্ত যে কোন ধরনের বৈষম্য দুর করা হবে।
  • যে সব পিতা মাতার নিজের কোন সংস্থান নেই, তাদের সন্তানদের কাছ থকে সহায়তা প্রাপ্তের অধিকার কে ক্রিমিনাল প্রসিডিয়র কোডের সেকশন ১২৫ মান্যতা প্রদান করে। হিন্দু অ্যডপশন অ্যান্ড মেন্টেনেন্স অ্যাক্ট ১৯৫৬ অন্তর্গতে পিতা মাতার অধিকার সুরক্ষিত। এই পদ্ধতি কে সহজ করতে, দ্রুত সমাধান প্রদান করতে, বিষয়গুলো প্রসেস করার জন্য পদ্ধতি তৈরি করতে, ও অধিকার এবং পরিস্থিতির সঠিক বর্ণনা প্রদান করতে হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা, দ্যা হিমাচল প্রদেশ মেন্টেন্যান্স অফ পেরেন্টস অ্যন্ড ডিপেন্ড্যান্ট বিল ১৯৯৬, পাস করে। মহারাষ্ট্র সরকার ও একই রকমের আইন এনেছেন। অন্যান্য রাজ্য কে এই ধরেন আইন প্রেরেণ করার জন্য উৎসাহিত করা হবে যাতে যে সব বৃদ্ধা নিজেদের যত্ন নিতে পারেন না তারা যেন অবহেলা ও পরিত্যাগ অনুভব না করেন

স্বাস্থ্যের যত্ন ও পুষ্টি
  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে যুজতে হয়। কিছু সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় ও ক্রমাগত যত্নের প্রয়োজন হয়। তাদের চলাফেরা করার ক্ষমতা হ্রাস হয় ও স্বাধীনতা বর্জন করতে হয়। কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও যত্নের প্রয়োজন হব
  • প্রবীণদের স্বাস্থ্যের যত্ন কে উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। লক্ষ্য হতে হবে ভাল সামর্থ্যের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য ভাল ভর্তুকি দিতে হবে। জনসাধারান স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্বাস্থ্য বীমা, লাভ বীহিন সংস্থা দ্বার স্বাস্থ্য পরিষেবা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি একটা সুবিচারপূর্ণ মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। প্রথমটির জন্য সরকারের ভূমিকা অনেক বেশি দ্বতীয়টির জন্য সরকার কে প্রমোট করতে হবে, তৃতীয়টির জন্য কিছু সহায়তা, ছাড় ই্ত্যাদি প্রদান করতে হবে ও চতুর্থটির জন্য কিছু আইন প্রেরণ করার প্রয়োজন আছে।
  • জনসাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র হল মৌলিক কাঠামো। এই পরিকাঠামো কে সুদৃঢ় করা হবে যাতে তারা বয়স্কদের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সক্ষম হন। তারা যেন জনসাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রিভেন্টিভ, কিউরেটিভ, রেস্টোরেটিভ ও রিহ্যাবিলিটেটিভ পরিষেবা প্রদান করতে পারে। সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্তরে জেরিয়াটিভ কেয়ার পরিষেবা যেন প্রদান করতে পারেন। এটা অর্জন করার জন্য সরকার কে বিনিয়োগ করতে হবে, ডেলিভারি সিস্টেম বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সুদৃঢ় করতে হবে ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কে ভাল করতে হবে।
  • স্বাস্থ্য বীমার ক্ষেত্রে কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ।স্বাস্থ্য বীমা কে বিভিন্ন উপার্জন ক্ষমতা মানুষ ও বিভিন্ন প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হবে। কম উপার্জন ক্ষমতা ব্যক্তিদের জন্য সরকার তরফে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্য বীমা কে অনেক ধরনের রিলিফ ও ছাড় দেওয়া হবে যাতে বীমা সুরক্ষার বেস বিস্তৃত হয় ও সেটা সামর্থ্যের মধ্যে হয়।
  • ট্রাস্ট, চ্যারিটেবল সোসাইটি ও স্বেচ্ছাসেবী এজেন্সিদের প্রমোট , উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হবে,যেমন অনুদান, করে ছাড়, ভর্তুকি প্রাপ্ত জমি দিয়ে, যাতে তারা দরিদ্র প্রৌড়দের বিনামূল্য বেড, ঔষধ ও চিকিৎসা প্রদান করেন ও অন্য ব্যক্তিদের কাছ খেকে যুক্তিসঙ্গত চার্জ করেন।
  • আজ কাল বেসরকারি মেডিকেল পরিষেবা, যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের সাম্প্রতিকতম চিকিৎসা প্রদান করছেন। যেখানে চলতি বাজার মূল্য থেকে কম দামে জমি দেওয়া হয়েছিল, সেই রকম বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোম কে বয়স্কদের সরারসরি ছাড় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। বেসরকারি ডাক্তাতারদের জেরিয়াটিক কেয়ারের ওপর অরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হবে।
  • সরকারি হাসপাতালে সুনিশ্চিত করা হবে যে বয়স্কদের বেশি সময় অপেক্ষা না করতে হয়, তাদের এক কাউন্টার থকে অন্য কাউন্টারে ঘোরা ফেরা করতে না হয়। চেষ্টা করা হবে তাদের জন্য আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করতে । জেরিয়েটিক ওয়ার্ড ও খোলা হবে।
  • প্রাথমিক, সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় নিযুক্ত মেডিকেল ও প্যারা মেডিকেল কর্মীদের বয়স্কদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মেডিকেল কলেজে জেরিয়াটিক্সের ওপর বিশেষজ্ঞ পাঠক্রম চালু করা হবে। নার্সিং এর পাঠক্রমে জেরিয়াটিক কেয়ারে বিষয়ে পড়ানো হবে। বয়স্ক মানুষরা অনেক সময় স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ করতে যেতে পারেন না। এই রকমের সমস্যা সমাধান করতে মোবাইল হেলথ সার্ভিস চালু করা হবে। বিশেষ ক্যাম্প ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা হবে। হাসপাতালদের নির্দেশ দেওয়া হবে একটা বিশেষ ওয়েলফেয়ার ফান্ড চালু করার জন্য যেখানে তারা ডোনেশন, অনুদান গ্রহণ করবেন ও গরীব বয়স্কদের বিনামূল্য চিকিৎসা করবেন।
  • যে সব প্রৌড় দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ আছেন, পারিবারিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য সরকার, চ্যারিটি বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দ্বারা সাপোর্ট করা হাসপাতালের প্রয়োজন। এই গুলো সেই সব দীর্ঘ অসুস্থ রোগীদের জন্যেও প্রয়োজন যাদের সরকারি হাসপাতালে পরিত্যাগ করে দেওয়া হয়েছে।
  • বয়স্ক ব্যক্তিদের নিজ যত্ন বিষয়ে নির্দেশ পুস্তিকা প্রকাশন ও বিতরণ করার জন্য জেরিয়াটিক সোসাইটি কে সহায়তা প্রদান করা হবে। বয়স্কদের স্বাস্থ্য ও নার্সিং কেয়ার প্রদান করতে পরিবারের জন্য নির্দেশমুলক বই ইত্যাদি তৈরি করা ও বিতরণ করাতে সাহায্য করা হবে।
  • বয়স্ক ব্যক্তি ও তাদের পরিবার কে পুষ্টি বিষয়ক তথ্য প্রদান করা হবে। কোন খাবার বর্জন করতে হবে ও কোন খাবার খেতে হবে, এই বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করা হবে।
  • স্বাস্থ্যকর ভাবে বুড়ো হওয়ার ধারনা কে প্রমোট করা হবে। বয়স্ক ব্যক্তি ও তাদের পরিবার কে জানতে হবে যে বয়স বাড়া মানেই রোগে আক্রান্ত হওয়া নয়। বার্ধক্য মানে এও নয় যে এই সময়ের পর থেকে স্বাস্থ্যের অবনতি হবে। অন্য দিকে আগে থেকে যত্ন নেওয়া থাকে আপনি স্বাস্থ্য ভাল রাখতে পারবেন ও অক্ষমতা রোধ করতে পারবেন।
  • মিডিয়া, ফোল্ক মিডিয়া ও অন্যান্য যোগাযোগের পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় শিক্ষামুলক কার্যক্রম কে সুদৃঢ় করা হবে যাতে জনসংখ্যার বিভিন্ন স্তরে পৌঁছায়। অসুস্থতার মোকাবিলা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। যুবক ও মধ্য বয়সী ব্যক্তিদের জন্যেও প্রোগ্রাম তৈরি করা হবে। তাদের দেখানো হবে যে এই বয়সের জীবন যাত্রার ফলে পরবর্তী জীবনে কি রকমের প্রভাব ফেলে। কি ভাবে সারা জীবন সুস্থ থাকা যায় সে বিষয়ে বার্তা দেওয়া হবে। ব্যালেন্স ডায়েটে,যোগ বয়াম, নিয়মিত অভ্যাস ইত্যাদির গুরুত্ব বোঝানো হবে। যোগ, মেডিটেশন ও আরাম করা পদ্ধতির ওপরে প্রোগ্রাম করা হবে এবং যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার বিস্তার করা হবে। পরিবার কে কাউনসেলিং সুবিধা ও মানসিক অসুস্থতা সম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তিদের দেখাশোনার ব্যাপারে তথ্য প্রদান করা হবে।
  • বেসরকারি সংস্থা কে গ্রান্ট, প্রশিক্ষণ, তাদের কর্মচারীদের অরিয়েন্টেশন এবং বিভিন্ন ছাড় দিয়ে সাহায্য করা হবে যাতে তারা সরকারের কাজে পূরক হয়ে অ্যামবুলেটরি পরিষেবা, ডে কেয়ার পরিষেবা ইত্যাদি প্রদান করতে পারে।

আশ্রয়
  • আশ্রয় হল মৌলিক মনুষ্য চাহিদা। বিভিন্ন উপার্জন স্তরের জন্য বাড়ির যোগান বাড়ানো হবে। নগর ও গ্রামে হাউজিং স্কিমের মধ্যে ১০% বার্ধক্যদের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে। এর মধ্য ইন্দিরা আওয়াস যোজনা ও অন্যান্য সরকারি স্কিম অন্তর্ভুক্ত। কর্মরত ব্যক্তিদের যুবা বয়সে বাড়ি তৈরি কারাতে উৎসাহিত করতে হবে। যার ফলে বুড়ো বয়সে বাড়ি নিয়ে কোন চিন্তা না থাকে। এর জন্য দ্রুত শহরে ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, সময় মত সিভিক সার্ভিস উপলব্ধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যথার্থ ঋণের ব্যবস্থা, সরল পরিশোধ, সময় মনে নির্মাণ কাজ শেষ, করে ছাড় ইত্যাদি করতে হবে। হাউজিং উন্নয়ন সরকার ও বেসরকারি সংস্থা কে একসাথে মিলে করতে হবে। এবং এর জন্য হাউজিং বোর্ড, সিভিক অধিকারী, ঋণের সংস্থা, বেসরকারি ডেভলাপার ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় হতে হবে। বয়স্ক ব্যক্তিদের বাড়ি কেনা বা মেরামত করার জন্য সহজে ঋণ ও সহজে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • বাড়ির লেআউট বয়স্কদের জীবনযাত্রা অনুযায়ী হতে হবে। এটা সুনিশ্চিত করতে হবে যাতে কোন ফিজিক্যাল বেরিয়ের না থাকে। তারা যেন সহজে দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক ইত্যাদি যেতে পারেন । বয়স্কদের মেলামেশা করার জন্য একটি মাল্টি পার্পাস সুবিধার প্রয়োজন আছে। তাই প্রতিটি হাউজিং কলোনিতে ওইরকম সুবিধার জন্য স্থান নির্ধারণ করার প্রয়োজন আছে। হাউজিং কলোনিতে প্রৌঢ়দের আলাদা করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে । তাদের ও সামাজিক মেলামেশার প্রয়োজন আছে। লিফট চাড়া তিন চার তলা বাড়ি প্রৌঢ়দের জন্য অসুবিধার হয়, তাদের একা করে দেয়, তাদের চলা ফেরা আটকে যায়, ও পরিষেবা গ্রহণ করার জন্য বাধা সৃষ্টি করে। বয়স্কদের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকের বিষয়ে প্রেফারেন্স দেওয়া হব
  • প্রবীণদের জন্য গ্রুপ হাউজিং স্কিমের উৎসাহ দেওয়া হবে , যেখান খাবার, লন্ড্রি, কমন রুম, রেস্ট রুম ইত্যাদির সার্বজনীন সুবিধা থাকবে। তারা সহজে কমিউনিটি সার্ভিস, মেডিকেল কেয়ার, পার্ক, মনোরঞ্জনের ইত্যাদি সুবিধা পাবেন।
  • টাউন প্ল্যানার, আর্কিটেক্ট ও আবাসনের প্রশাসনিকদের শিক্ষা , ট্রেনিং ও অরিয়েন্টেশনে বয়স্কদের সুরক্ষিত ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা বিষয়ে মডিউল থাকবে।
  • কি ভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, ও কি ভাবে সুরক্ষা বৃদ্ধি হয় , এই বিষয়ে বয়স্কদের ও তাদের পরিবার কে তথ্য প্রদান করা হবে।
  • শব্দ দূষণ শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের একই ভাবে বিব্রত করে। এই সংক্রান্ত নিয়ম করা হবে ও কঠোর ভাবে কার্যকর করা হবে।
  • সিভিক অথোরিটি ও যারা জনসাধারণ পরিষেবা প্রদান করে তাদের অনুরোধ করা হবে প্রবীণদের অভিযোগ সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য । সম্পত্তি স্থানান্তরণ, মিউটেশন, সম্পত্তি কর ও অন্যান্য বিষয়ে প্রবীণদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এই সব অবস্থায় হেনস্থা ও নির্যাতন রোধ করা হবে।

শিক্ষা
  • প্রবীণদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও তথ্যের চাহিদা মেটানো হবে। তারা পূর্বে কোন সহায়তা পান নি। প্রবীণদের বিশেষ করে তৈরি করা হবে শিক্ষামুলক বস্তু তাদের জীবনের সাথে সম্পর্কিত এবং বিস্তারিত বিতরণ করা হবে।
  • শিক্ষার সুযোগ বা প্রশিক্ষণে বয়স্কদের বিরুদ্ধে কোন রকমের ভেদ কে দুর করা হবে। এই শিক্ষামুলক কর্মসূচীর মধ্যে বিস্তারিত বিষয় অন্তর্গত হবে , তাদের কেরিয়ের উন্নত করা থেকে শুরু করে তাদের অবসর সময় কি করে কার্যকর ভাবে কাজে লাগানো যায় পর্যন্ত। তাদের কলা, সংস্কৃতি , ইত্যাদি কে কাজে লাগিয়ে কি করে সমাজের জন্য কাজ করা যায়। মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্য নেওয়া হবে ডিস্ট্যান্স লার্নিং-এর মধ্যে তাদের শিক্ষা প্রদান করার জন্য। বয়স্কদের বিভিন্ন লাইব্রেরি, রিসার্চ সংস্থা ও সা-সংস্কৃতি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগে সাহায্য প্রদান করা হবে
  • শিক্ষা পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে মেলবন্ধন ও সহায়ক সম্পর্ক স্থাপন করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে। যে সব বয়স্ক ব্যক্তি যাদের পেশাদারি শিক্ষা আছে, বা বিজ্ঞান , কলা, পরিবেষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এতিহ্য বিষয়ে শিক্ষিত তারা নতুন প্রজন্মের যুবক যুবতিদের সাথে মত বিনিময় করতে পারবেন। স্কুলদের নিয়মিত প্রবীণদের সাথে মেলামেশা করার আউট-রিচ কর্মসূচী তৈরি করতে উৎসাহিত করা হবে। তাদের প্রবীণ নাগরিক কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য আহ্বান করা হবে।
  • সব বয়সের সদস্য, পরিবার ও সমাজ কে বুড়ো হওয়ার প্রক্রিয়া ও জীবনের বিভিন্ন অবস্থার ভূমিকা এবং দায়িত্ব পরিবর্তন বিষয়ে তথ্য প্রদান করা হবে। মিডিয় বা অন্য ফোরমের মাধ্যমে বাড়ির ভিতরে ও বাইরে বয়স্কদের ভূমিকা বিষয় উল্লেখ করা হবে। এবং নেগেটিভ ছবি , প্রাচীন ধারনা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হবে

কল্যাণ
  • এই কল্যাণ কর্মসূচীর অন্তর্গতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে দুস্থ, গরিব, অক্ষম, অসুস্থ ব্যক্তিদের ও যাদের পারিবারিক সহায়তা নেই। নিতি এই রকম হবে যে সর্বশেষ বিকল্প হিসাবে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তরিত করা হবে।
  • স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দ্বারা পরিষেবা কে প্রমোট ও সহায়তা প্রদান করা হবে ও প্রবীণদের ও তাদের পরিবারের কোপিং করা ক্ষমতা কে সুদৃঢ় করা হবে। এটা খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে কারণ পরিবারের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে ও মহিলারাও বাইরে কাজ করতে বেরচ্ছেন। পারিবারিক যত্নের দায়িত্ব কে ভাগ করে নেওয়ার কাজে সাপোর্ট সার্ভিসের কিছু রিলিফ প্রদান করবে।
  • বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করা চালানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কে অর্থিত সহায়তা প্রদান করা হবে। গরীবদের জন্য এই ব্যবস্থা বেশি করে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যাতে ওই রকমের আবাসন খুব যেন খুব প্রাণবন্ত হয় এবং যেন অধিবাসীদের বাইরের জগতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে। তাদের বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করার বিষয়ে প্রফেশনাল পরামর্শ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। এই পরিষেবা প্রদানে যুক্ত কর্মীদের অনুরূপ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
  • স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হবে এই রকমের পরিষেবা চালু করতে যেমন ডে কেয়ার, বহু পরিষেবা নাগরিক কেন্দ্র, রিচ-আউট পরিষেবা, অক্ষমতা সংক্রান্ত এইড ও অ্যপলায়েন্স, এই সব সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। যে সব বয়স্ক ব্যক্তি একলা বাস করেন তাদের হেল্পলাইন পরিষেবা, বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগে সাহায্য, তাদের হাসপাতাল, দোকান ও অন্যান্য স্থানে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি পরিষেবা প্রদান করা।
  • তাদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল তৈরি করা হবে। এই তহবিলে সরকার, কর্পোরেট সেক্টর, ট্রাস্ট, চ্যারিটি, ব্যক্তিগত ডোনার ও ইত্যাদি থেকে অনুদান গ্রহণ করা হবে। এই তহবিলে অনুদান কে কর মুক্ত করা হবে। রাজ্য সরকার ও এই রকম তহবিল স্থাপন করতে পারেন।
  • এই কল্যাণ কাজে অনেক সংস্থা কে এক সাথে কাজ করতে হবে । সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও প্রাইভেট সেকটার, সবারই অবদানের প্রয়োজন। প্রাইভেট সেকটার সেই সব প্রবীণের বর্গের জন্য শ্রেয় হবে যাদের আর্থিক ক্ষমতা আছে ও যারা ভাল যত্নের চাহিদা করেন।

জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা
  • অপরাধ মুলকে কাজে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে বয়স্ক মানুষ সহজ শিকার। এর অতিরিক্ত সম্পত্তির লোভে পরিবারের সদস্যদের কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন । নিজের সন্তান বা আত্মীয় স্বজনের কাছে বিসয়- সম্পত্তি নিয়ে নিয়মিত নির্যাতিত হতে হয়। এই জন্য প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজন। ভারতীয় দণ্ডবিধির মধ্যে বিশেষ প্রভিশন আনা হবে ও সেই রকম ব্যবস্থা করা হবে যাতে এই রকমের কেসের দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে। ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত আইন কে পুনঃপরিক্ষা হবে হবে যাতে বয়স্কদের রাইটস অফ অকুপ্যান্সি কে দ্রুত প্রত্যর্পণ করা হয়।
  • স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও বয়স্কদের অ্যাসোসিয়েশন কে সাহায্য প্রদান করা হবে যাতে তারা প্রবীণদের জন্য হেল্পলাইন পরিষেবা, আইনি পরামর্শ ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে সুরক্ষা পরিষেবা প্রদান করতে পারে।
  • পুলিস কে নির্দেশ দেওয়া হবে বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপার নজর রাখতে বিশেষ করে যারা একা বসবাস করেন। প্রবীণ ব্যক্তিদের পরামর্শ বা উপদেশ দেওয়া হবে কি করে তারা বাড়িতে অযাচিত প্রবেশ রোধ করতে পারবেন, বা কোন চাকর /ড্রাইভার ইত্যাদি নিয়োগ করার সময় কি ধরনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে ইত্যাদি।

অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র
  • অন্যান্য অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে সরকারে ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রয়োজন যাতে পলিসি ও প্রোগ্রামে বয়স্কদের প্রতি সংবেদনশীলতা বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে হল প্রশাসন থেকে পরিচয় পত্র, ভাড়া তে ছাড়, রিজার্ভেশনে অগ্রাধিকার, ও লোকাল ট্রান্সপোর্টে আসন সংরক্ষণ, বাস ট্রাম এমন ভাবে ডিজাইন করা যাতে প্রবেশ প্রস্থান সহজ হয়ে যায়, রাস্তা পার করার নিয়ম কঠোর ভাবে কার্যকর করা, গ্যাস বা টেলিফোন যোগাযোগ নেওয়ার সময় ও ত্রুটি ঠিক করার সময় অগ্রাধিকার , ঘোরা ফেরা সহজতর করতে, শারীরিক প্রতিরোধ সরানো, ইত্যাদি।
  • বয়স্ক মানুষের প্রতরণা পুর্বক লেনদেন, প্রবচন ইত্যাদি অভিযোগ কে দ্রুত মিটিয়ে ফেললে তারা অনেক উপকৃত হবেন।এই উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • ন্যাশনাল ওলডার পার্সন্স ডে দিন তাদের সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। ২০০০ বর্ষ কে ন্যাশনাল ইয়ার ফর ওলডার পর্সন ঘোষণা করা হয়েছে। সারা বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার সাথে মিলে বিভিন্ন ধরনে অ্যাক্টিভিটি প্ল্যান ও কার্যকর করা হব
  • প্রবীণ নাগরিকদের যা সুবিধা , চাড় ইত্যাদি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার প্রদান করে সেগুলো একত্র করা হবে , মাঝে মাঝে আপডেট করা হবে ও বয়স্কদের সংস্থা কে দেওয়া হবে।

বেসরকারি সংস্থা
  • শুধু মাত্র সরকার বয়স্কদের জন্য সব রকমের পরিষেবা প্রদান করতে পারবেন না।বেসরকারি সংস্থা শুধু মাত্র সেই শ্রেণী প্রবীণদের পরিষেবা প্রদান করে যাদের আর্থিক ক্ষমতা আছে। সরকারের কাজের পূরক হিসাবে এনজিওদের ক্ষমতা ও অবদান কে জাতীয় নীতি স্বীকৃতি দেয়।
  • স্বেচ্ছায় প্রচেষ্টা কে প্রমোট ও সাপোর্ট করা হবে। এনজিওদের সাথে বার্ধক্য বিষয়ে নিয়মিত কাথাবার্তা ও যোগাযোগ চালানো হবে । এনজিওদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, তথ্যে আদানপ্রদান ও আলাপ আলোচনা সহজতর করা হবে। স্বচ্ছতা, অ্যাকুন্টেবিলিটি, পদ্ধতি কে সরলীকরণ, ও সময়মত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কে অনুদান প্রদান করলে ভাল পরিষেবা পাওয়া যাবে। গ্রান্ট-ইন-এড নীতি সংস্থাগুলো কে উৎসাহিত করবে তাদের নিজেদের রিসোর্স তৈরি করার জন্য এবং সরকারেরে ওপর নির্ভরশীল না হওয়ে পরিষেবা প্রদান করা চালিয়ে যেতে পারবে।
  • ট্রাস্ট, চ্যারিটি ও ধার্মিক সংস্থা গুলো কে উৎসাহিত করা হবে তদের কর্মসূচীর তালিকার মধ্যে বয়স্কদের পরিষেবা প্রদান করা কে অন্তর্ভুক্ত করতে।
  • প্রবীণদের কেও উৎসাহিত করা হবে অন্যান্য বয়স্কদের পরিষেবা প্রদান করতে। এই ভাবে তারা তাদের প্রফেশনাল জ্ঞান, দক্ষতা কে কাজে লাগাতে পারবেন। তাদের দ্বারা অ্যডভোকেসি, জনসাধারণের মতামত একত্র করা , রিসোর্স জোগাড় করা ইত্যাদি উদ্যোগ কে সাপোর্ট করা হবে।
  • সেই সব স্বেচ্ছাসেবী প্রোগ্রাম কে সাপোর্ট করা হবে যেখানে বয়স্ক ব্যক্তিদের যোগদান কে উৎসাহিত করে, তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে ও তাদের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করে। স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ও তাদের ক্রিয়াশীল বার্ধক্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নতির বিষয়ে অবগত করানো হবে। তাদের বিশেষ করে অনুপ্রাণিত করা হবে সেই সব প্রৌঢ়দের সাথে সময় কাটাতে যারা একলা গৃহবন্দি থাকেন
  • ট্রৈড ইউনিয়ন, মালিক সংস্থা ও প্রফেশনাল বডিদের অনুরোধ করা হবে বার্ধক্য বিষয়ে তাদের সদস্যদের মধ্যে সচেতন বাড়াতে। ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য পরিষেবা প্রোমোট ও অনুষ্ঠিত করতে।

তাদের সম্ভাব্য ক্ষমতার অনুভব করা
  • জাতীয় নীতি মনে করে যে ৬০+ ব্যক্তিরা অব্যবহৃত সম্পদ। এই সব সুবিধা স্থাপন করা হবে যাতে তাদের ক্ষমতা কে কার্যকারী করা যায় ও তারা ইচ্ছামত কাজ করতে পারেন।
  • বয়স্ক ব্যক্তি বিশেষ করে মহিলারা গৃহ কাজে বিশাল ভূমিকা আছে, যা সাধারণত সামনে আসে না। চেষ্টা করা হবে পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে যে সংসার চালানোতে বয়স্ক, বিশেষ করে মহিলাদের অনুদান কে সম্মান করতে ও স্বীকৃতি দিতে। মিডিয়া মাধ্যমে এই মর্মে বিভিন্ন অনুষ্ঠান তৈরি করা হবে ও প্রসারণ করা হবে। এই ভাবে মানুষদের মধ্যে জ্ঞান ও সচেতন বৃদ্ধি পাবে ও এই ভাবে নাতি নাতনিদের মধ্যে সামাজিক-সংস্কৃতি ঐতিহ্য প্ররিত হবে।

পরিবার
  • ভাতরবর্ষ পরিবার হল সযত্নে লালিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করার গুরুত্বপূর্ণ নন-ফর্মাল ব্যবস্থা। বেশিরভাগ বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের সন্তানের সাথে বসবাস করেন। এটা তাদের জন্য মানসিক ভাবে খুব তৃপ্তি প্রদান করে। এটা খুব জরুরি যে পারিবারিক পরিবেষের মধ্যে যাতে প্রবীণদের দেখা শোনা করার ব্যবস্থা যেন চলতে থাকে । এবং সহায়ক পরিষেবা প্রদান করে পরিবার কে এই দায়িত্বভার বহন করতে সাহায্য করা ।
  • বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে পারিবারিক মূল্য বোধ কে প্রমোট করার জন্য, বিভিন্ন প্রজন্মের ব্যক্তিদের একসাথে থাকার প্রয়োজনের বিষয়ে যুবকদের অবগত করানো জন্য। যত্ন ও ভাগ করার যে মূল্যবোধ আছে সেগুলো কে শক্তিশালী করতে হবে। আজকের সমাজে অনেক ব্যক্তিদের এক মাত্র সন্তান থাকে। তাই বিবাহিত মেয়ের তার পিতা-মাতার ওপর দায়িত্বের বিষয়ে সমাজ কে সচেতন করাতে হবে। এর জন্য শুর বাড়ির কিছু ধারনা পরিবর্তন করার প্রয়োজন। ছেলে ও মেয়ে উভয়েই যেহেতু উত্তরাধিকার বিষয়ে সমান অধিকার আছে তাই তাদের দায়িত্ব ও সমান সমান। এবং বিশেষ করে মেয়েরা যারা পিতার প্রতি বেশি মানসিক ভাবে যুক্ত।
  • রাজ্য নিতি করে ছাড় দিয়ে সন্তানদের উৎসাহিত করবে পিতা-মাতার সঙ্গে এক সাথে বসবাস করার জন্য। তাদের চিকিৎসা জনিত খরচায় চাড় দিতে পরে ও বাড়ি বণ্টনে অগ্রাধিকার দিতে পারে। সবাই কে দীর্ঘমেয়াদি বিয়োগ করা ও স্বাস্থ্য বীমা নিতে উৎসাহ করা হবে যাতে পরে পরিবারের ওপর অর্থিত চাপ বেশি না পড়ে। এনজিও-দের উৎসাহিত করা হবে সহায়ক পরিষেবা প্রদান করার জন্য । যেমন পরিবার কোথাও বেড়াতে গেলে প্রবীণদের অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা। পরিবারের মধ্যে চাপ কম করতে কাউন্সেলিং পরিষেবা।

রিসার্চ
  • প্রবীণদের ওপর ভাল ডাটাবেস খুব জরুরি। প্রবীণদের ওপর রিসার্চের কাজ কে আরও মজবুত করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ও রিসার্চ প্রতিষ্ঠান কে সহায়তা প্রদান করা হবে জেরেনটোলজিক্যাল ও জেরিয়াটিক্সের ওপর কাজ করার জন্য । বার্ধক্যে ওপর রিসার্চের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিকদের সাহায্য করা হবে যাতে তাদের শিক্ষা ও জ্ঞান কে কাজে লাগানো যায়।
  • রিসার্চের জন্য ইন্টারডিসসিপ্লিনারি কোর্ডিনেটিং বডি স্থাপন করা হবে। যে সব এজেন্সি তথ্য সংগ্রহ করেন তাদের অনুরোধ করা হবে ৬০ ঊর্ধ্বে ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শ্রেণী ব্যবহার করতে। জেরেনটোলোজিস্টদের অ্যাসোসিয়েশন কে রিসার্চ, রিসার্চের ফল প্রচার এবং আলাপ আলোচনা, ও তথ্য বিনিময় করার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে ।
  • রিসার্চ, প্রশিক্ষণ ও ডকুমেন্টেশন করার জন্য একটি জাতীয় স্তরে সংস্থার প্রয়োজন আছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই রকমের রিসোর্স সেন্টার খোলার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

মানব সম্পদের প্রশিক্ষণ
  • এই পলিসি প্রশিক্ষিত কর্মচারীর গুরুত্ব কে স্বীকৃতি দেয়। জেরিয়াটিক্সে স্পেশালাইজেশনের জন্য মেডিকেল কলেজ গুলোকে সাহায্য প্রদান করা হবে। নার্স ও প্যারা মেডিকেল ব্যক্তিদের শিক্ষা পাঠক্রমে জেরিয়েটিক কেয়ারের ওপর বিশেষ কোর্স চালু করা হবে । চাকরি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো শক্তিশালী করতে হবে জেরিয়াটিক কেয়ারের ওপর অরিয়েন্টেশন কোর্স করার জন্য। পাঠ্যসূচী ও কোর্স সংক্রান্ত বই পত্র প্রদান করা হবে। বেসরকারি সংস্থা যারা প্রবীণদের পরিষেবা প্রদান করতে তাদের প্রশিক্ষণ ও অরিয়েন্টেশন প্রদান করা হবে।
  • বিভিন্ন স্তরে লেজিসলেটিভ, জুডিশিয়াল এবং একজিকিউটিভ শাখার জন্য সেন্সিটাইজ করার জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
মিডিয়া
  • জাতীয় নীতি মিডিয়ার ভূমিকা কে স্বীকৃতি দেয়। প্রবীণদের জন্য পরিবর্তনশীল অবস্থা ও তার থেকে বেরিয়ে আসা সমস্যা ও সমস্যা মোকাবিলায় কি করতে হবে সেই বিষয়ে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সৃজনশীল ভাবে মিডিয়া ব্যবহার করে সক্রিয় ভাবে বুড়ো হওয়া কে প্রমোট করা যাবে ও জীবনের এই সময়ের নেগেটিভ ছবি কে দুর করা যাবে। মিডিয়ার মধ্যে ভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা যাবে। এবং বার্ধক্যের প্রক্রিয়া কে ভাল ভাবে বোঝা ও কি ভাবে উৎপন্ন সমস্যা সমাধান করা যাবে সেই বিষয়ে শিক্ষামুলক বস্তু এবং তথ্য প্রদান করে মিডিয়া সাহায্য করতে পারে।
  • এই পলিসির লক্ষ্য হল মিডিয়া ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম কে এক সাথে নিয়ে চলার। মিডিয়ার লোক জন কে সব রকমের তথ্য প্রদান করা হবে। প্রৌঢ়দের জন্য অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে তাদের অংশীদারিতে সাহায্য করা হবে। মিডিয়ার লোকোদের সাথে বার্ধক্য বিষয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের আলাপ আলোচনার সুযোগ করে দেওয়া।

রূপায়ন
  • প্রবীণদের জন্য জাতীয় নীতি কে বিস্তৃত ভাবে বিতরণ করা হবে যার জন্য একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হবে যাতে এর বৈশিষ্ট্য গুলো সবসময় জনসাধারণের নজরে থাকে
  • এই পলিসি রূপায়ন হলেই প্রবীণদের জীবনে কোন পার্থক্য দেখা যাবে। যেখানে সরকার ও তাদের বিশিষ্ট সংস্থার বিশেষ দায়িত্ব আছে, সেখানে প্রতিজন ব্যক্তি কে বৃদ্ধাদের অবস্থা উন্নতি করতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক সাথে কাজ করলে এই সমাজ কে আরও মানবিক করে তোলা যাবে এবং বৃদ্ধারা তাদের বৈধ স্থান পেতে পারবেন। বৃদ্ধাদের জন্য শীর্ষ সংস্থাগুলো ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ । তার ভাল করে নজরদারই করতে পারেন, জনসাধারণের মতামত কে সামনে নিয়ে আসতে পারেন, ও পলিসি রূপায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।
  • এই পলিসি রূপায়ন মিনিস্ট্রি অফ সোসাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওরমেন্ট নোডাল মিনিস্ট্রি হিসাবে কাজ করবে। বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে একটা বিশেষ বুরো খোলা হবে। একটি ইন্টার-মিনিস্ট্রিয়াল কমিটি পলিসি রূপায়নের সব বিষয়গুলো কোঅরডিনেট করবেন ও তার অগ্রগতি মনিটর করবেন। রাজ্যগুলো কে বৃদ্ধাদের জন্য পৃথক ডিরেকটরেট খোলার জন্য এবং কোঅরডিনেট ও মনিটর করার জন্য ব্যবস্থা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হবে
  • প্রতি মিনিস্ট্রি তাদের সম্পর্কিত বিষয় রূপায়ন করার জন্য একটি পঞ্চ বার্ষিকী অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করবেন। এই প্ল্যানে সেই সব পদক্ষেপ উল্লেখ করা থাকবে যার দ্বারা সাধারণ কর্মসূচীর সুবিধা ও বিশেষভাবে প্রস্তুত করা স্কিমের লাভ কি ভাবে দ্রুত বয়স্কদের কাছে পৌঁছাতে পারে। রূপয়ন করার জন্য অর্থ বণ্টন করবে যোজনা কমিশন ও বিত্ত মন্ত্রণালয়। প্রতিটি মিনিস্ট্রির তাদের বার্ষিক রিপোর্ট এই পলিসি রূপায়নের অগ্রগতির বিষয়ে উল্লেখ করবেন।
  • প্রতি তিন বছর অন্তর নোডাল মিনিস্ট্রি এই জাতীয় পলিসি রূপায়ন কে পর্যবেক্ষণ করবেন। এই রিপোর্ট জনসাধারণের সামনে আনা হবে। জাতীয় কনভেনশনে এই রিপোর্ট আলোচনা করা হবে। রাজ্য সরকার কেও একই রকমের ব্যবস্থা করার জন্য অনূর্ধ্ব করা হবে।
  • একটি স্বশাসিত ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ওলডার পার্সন যার শীর্ষ থাকবেন সোসাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের মন্ত্রী স্থাপন করা হবে। এই কাউন্সিলে সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও যোজনা কমিশনের প্রতিনিধি থাকবেন। বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, ও বার্ধক্যে বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিত্ব এই কাউন্সিলে থাকবে
  • এটি স্বশাসিত ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ওলডার পার্সন (এনএও্পিএস) স্থাপন করা হবে প্রবীণদের মোবিলাইজ করতে, তাদের আগ্রহ বিষয় গুলো সামনে আনতে, তাদের উন্নত জীবনের জন্য কর্মসূচী নিতে এবং সরকার কে প্রবীণদের সব বিষয়ে উপদেশ দিতে। এই অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয়, রাজ্য ও জেলা স্তরে অফিস হবে ও তারা নিজে কর্মচারী নিয়োগ করবেন। জাতীয় ও রাজ্য স্তরের অফিস স্থাপন করার জন্য সরকার অর্থিত সহায়তা দেবেন কিন্তু জেলা স্তরের অফিসের জন্য অ্যাসোসিয়েশন কে নিজে অর্থ জোগাড় করতে হবে। ১৫ বছরের জন্য জাতীয় ও রাজ্য স্তরের অফিস চালানোর খরচা সরকার বহন করবেন ও তার পরে আশা করা হয় অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের খরচা নিজেরা বহন করতে পারবেন।
  • জাতীয় পলিসি রূপায়ন করার জন্য পঞ্চায়েতি রাজ সংস্থাগুলো কে উৎসাহিত করা হবে। তাদের দায়িত্ব হবে স্থানীয় স্তরের সমস্যা সমাধান করা ও কর্মসূচী রূপায়ন করা। বয়স্কদের সমস্যা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তারা ফোরাম প্রদান করবেন। এই রকমের ফোরাম পঞ্চায়ত, ব্লক ও জেলা স্তরে কাজ করবে। এখানে পর্যাপ্ত বৃদ্ধ মহিলাদের অংশগ্রহণ থাকবে। স্থানীয় প্রৌঢ়দের ট্যালেন্ট ও কৌশল চিহ্নিত করবে ও সেগুলো কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করবে।
  • বিভিন্ন স্তরে যাতে কার্যকর ভাবে রূপায়ন করা সম্ভব হয়, তাই মাঝে মাঝে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নেওয়া হবে এই পলিসি রূপায়ন, কোঅর্ডিনেশন ও মনিটরিং করার জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য ।
  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.