OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

শারীরিক স্বাস্থ্য


মানসিক স্বাস্থ্য




মানসিক চাপ



একা থাকা



দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা



সংজ্ঞাহানী ও ডিমেন্সিয়া



বিচ্ছেদ/ মৃত্যু



পুষ্টি


বিচ্ছেদ/ মৃত্যু

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়জনের মৃত্যুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় আমাদের সকলকেই।

খুব সম্ভব যে আপনি ইতিমধ্যেই আপনার বাবা মা, কোন ভাই বা বোন, স্বামী বা স্ত্রী, ভাল বন্ধু বা কখনো কখনো সন্তান বা নাতি নাত্নিদেরও মৃত্যু দেখেছেন। যাদের সঙ্গে আপনি জীবনের ভাল মূহুর্তগুলি বাঁচেন তাদের মৃত্যুতে অবসাদ আস্তে পারে। পরবর্তী বয়সে বহুবছরের সম্পর্কের মৃত্যু হিসাবে দেখা যেতে পারে।
আপনার জীবনে অন্যান্য সমস্যা থাকতে পারেঃ চলাফেরা করার অসুবিধা, একা থাকার অসুবিধা, অশক্তি বা অসুস্থতা, সন্তানদের থেকে দূরে বাঁচা বা এমনও হতে পারে যে আপনার কোন পরিবারই বাকি নেই।

প্রিয়জনের মৃত্যু একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদময় ঘটনা। এই ক্ষতির ব্যথা পরিমাপ করার কোন সাধারণ মানক পদ্ধতি নেই এবং আমরা যে যার নিজের মতো করে এই ব্যথা অনুভব করি। যদি হোক, দুঃখের একটি পরিচিত ধরণ আছে এবং এই অধ্যায়ে আমরা দেখব দুঃখের বিভিন্ন পরিচিত ধাপগুলিকে এবং তা কিভাবে কম করা যায়।

অজানার ভয়ই আমাদের সব থেকে বড় ভয়, কিন্তু যদি জানেন যে দুঃখকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে এবং যে ধরণের অনুভূতি সাধারণত হতে পারে, তাহলে প্রিয়জনের মৃত্যুর জন্য আপনি অনেক বেশী প্রস্তুত থাকতে পারবেন।
আগেকার দিনে, দুঃখ করা অনেক নিয়ম ম্যান করা হত এবং দুঃখের রীতি নীতি আমাদের জীবনের অঙ্গ ছিল। আজকাল, রীতিগুলি খুব ছোট হয়ে এসেছে, আমরা হয়তো দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজন দেখি না, যদিও আমাদের সুস্থতা এবং সেরে ওঠার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদেরকে দুঃখ প্রকাশ করতে সময় দেওয়া উচিত এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই উচিত এবং তাদের সাহায়য করা উচিত। যদি আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস খুব দৃঢ় হয় তাহলে আপনার কোন প্রিয়জনকে হারালে হয়তো বিশ্বাস টলে যেতে পারে। আপনি নিয়মিত পূজা না করলে, নতু নরে শুরু করতে পারেন। ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং দর্শন দুঃখের দিনে খুব কাজ দেয়।

সন্তাপের মানসিক চাপ শারীরিক ও মানসিক ভাবে আমাদের উপর প্রভাব ফেলে। চাপের ফলে আমরা দুর্ঘটনা প্রবণও হয়ে পড়ি। সেই কারণে এই সময় নিজের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত, অতিরিক্ত বিশরা, পুষ্টিকর খাবার, তাজা বাতাস এবং শারীরিক কসরতের মাদক এবং অ্যালকোহলের থেকে বেশী গুরুত্ব রয়েছে এই সময়। কিন্তু যদি আপনি নিজের সুস্থতা সম্পর্কে চিন্তিত থাকেন বা কোন সমস্যা লেগেই থাকে তাহলে নিজের ডাক্তারের সঙ্গে যোগা যোগ করুন।


নিজের ভয়ের কথা বলুন

আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ও বাড়ে। প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমরা শৈশবের ভয়গুলির ফিরে আসা অনুভব করি তার সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন ভয়য়; অন্ধকারের ভয়; অজানা ভবিষ্যতের ভয়; বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় যাবার ভয়; দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে মানিয়ে না নিতে পারার ও অর্থনৈতিক ভয়; এবং বহুবছর ভালবাসার সম্পর্কের পর একা থাকার ভয়। সব থেকে বড় ভয় বোধহয় মৃত্যুর মুখো মুখি হওয়া। ভয়গুলি হয়তো সত্যি কিন্তু অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়; আপনার পরিবার বা বন্ধুদের সাহায্যে এই সকল ভয়গুলি জয় করু


প্রিয়জনের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া

মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলাটা খুব খারাপ নয় যদিও কিন্তু যতটা সম্ভব মানসিক এবং বাস্তবিক ভাবে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। কি ভাবে কি করতে হবে না জানলে দুঃখের সময় রাগ ও হতাশা আসতে পারে। দৈনন্দিন কাজগুলি সুস্থভাবে করতে পারলে কিছুটা নিশ্চিন্তি আসে এবং মানসিক অবসাদের মধ্যেই হালকা হওয়া যায় এবং একটি মানসিক ভাবনাও আসে যে আপনার প্রিয়জনের ভাল লাগবে যে তার চলে যাওয়ার সঙ্গে আপনি মানিয়ে নিচ্ছেন।


মৃত্যু ঘটলে যা কিছু করতে হবে

পরিবারে মৃত্যু ঘটলে, ডাক্তার ডেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট স্বাক্ষর করিয়ে নিন, যদি না মৃত্যু বিষয়ে পুলিস কেস হয়ে থাকে। যদি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাহলে ডাক্তার সেখানে থাকবেন সার্টিফিকেট দেবার জন্য। মেডিকেল সার্টিফিকেট অবশ্যই স্থানীয় জন্ম মৃত্যু রেজিস্ট্রারের কাছে নিয়ে যেতে হবে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কয়েকদিনের মধ্যে।


হঠাৎ মৃত্যু

যদি হঠাৎ ও অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে তাহলে আপনার ডাক্তারের দায়িত্ব হবে পুলিসে খবর দেওয়া, তারা হয়তো পোষ্ট মর্টেম করাবে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলি সাধারণ প্রক্রিয়া তাই এই নিয়ে বেশী চিন্তিত হবেন না।

মৃত্যুর নোটিশ

মৃত্যুর বিষয়ে আপনি হয়তো সংবাদপত্রে ঘোষণা করতে চাইবেন, সৎকারের দিন ক্ষণ ও স্থান দিয়ে। সংবাদপত্রের শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন বিভাগ সাধারণত আপনাকে সংখ্যা এবং খরচের বিষয়ে সাহায্য করবে। সুরক্ষার জন্য নিজের ঠিকান হয়তো দিতে চাইবেন না।


বাস্তবিক করণীয় ও অকরণীয়
  • মৃত্যুর জন্য আগে থেকে প্রস্তুত হবার চেষ্টা করুন।
  • নিজের মনের ভাব ব্যক্ত করুন; তা লুকিয়ে রাখলে খুব একটা ভাল হয় না। আপনার পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা সহমর্মী কয়েকজনের কাছে কি হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করুন।
  • নিজের সঠিক যত্ন নিন; ভালভাবে খাওয়া দাওয়া করুন ও বিশ্রাম নিন।
  • বাড়িতে কোন দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা নিন এবং আপনার বাড়ি যে সুরক্ষিত তা নিশ্চিত করুন।
  • যদি আপনার স্বাস্থ্য চিন্তার কারণ হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
  • আপনার পরিবার বা বন্ধুরা যেন কোন কিছু সিদ্ধান্ত চটপট না নেয়।
  • কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিজে না বুঝলে তাতে যোগদান করবেন না।
  • সৎকারের প্রক্রিয়া অধিক খরচ সাপেক্ষ করতে দেবেন না। মাদক সেবন, মদ্যপান বা ধূমপানে নিজেকে সঁপে দেবেন না।
  • শোকপালনের সময় বাড়ি বদলাবেন না। আপনার পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।
  • শোক থেকে আরোগ্যের পদ্ধতি নিয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না; ধীরে সুস্থে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।
  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.