OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

শারীরিক স্বাস্থ্য


মানসিক স্বাস্থ্য




মানসিক চাপ



একা থাকা



দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা



সংজ্ঞাহানী ও ডিমেন্সিয়া



বিচ্ছেদ/ মৃত্যু



পুষ্টি


মানসিক চাপ

বেশী বয়সে মানসিক চাপ হল সাধারণ সমস্যা। এর ফলে প্রচণ্ড মানবিক কষ্ট হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পরে। শুধুমাত্র মানসিক রোগীদের উপর নয়, তাদের যত্নকারীদের পক্ষেও যথেষ্ট পীড়াদায়ক। অবসাদগ্রস্থ অধিকাংশ মানুষই এর চিকিৎসার বিষয়ে অজ্ঞ, যদিও এর ফলে অনেকেই সুস্থ হতে পারে। অবসাদ সাধারণ মন খারাপ নয় এবং চাইলেই দূর করা যায় না। চিকিৎসা ছাড়া এর লক্ষণ বহু সপ্তাহ, মাস বা বছর ধরে চলতে পারে।
অবসাদ অন্যান্য অসুখের মতো বিভিন্ন প্রকারের হয়। দুরূহ অবসাদ হল সেইসব লক্ষণ যা কারুর কাজ করবার, ঘুমোবার, খাবার বা আনন্দ অনুভব করার ক্ষমতায় বাধা প্রদান করে। এই ধরণের ঘটনা জীবনে বহুবার ঘটতে পারে। এর থেকে কম কঠিন অবসাদ মানুষকে কোন কার্যে প্রতিবন্ধী বানায় না, কিন্তু দীর্ঘকালীন লক্ষণগুলি আপনাকে সম্পূর্ণ রূপে কোন কাজ করতে বা খুশী অনুভব করতে ব্যাঘাত ঘটায়। অসুস্থতার সময়ও গুরুতর অবসাদের ঘটনা ঘটতে পারে। তৃতীয় ধরণের অবসাদ হল ম্যানিক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস বা বাইপোলার ডিসর্ডার। এটি অবসাদ ও উচ্ছ্বাসের চক্রের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। কখনো কখনো মন্সইক অবস্থার ঘন ঘন পরিবর্তন হতে পারে, যদিও অধিকাংশ সময়েই এটি ধীরে ধীরে হয়।


অবসাদের লক্ষণগুলি হল
  • ক্রমাগত দুঃখী, উৎকণ্ঠিত বা “ফাঁকা” মুড থাকা। আশাহীনতা ও নৈরাশ্য বোধ।
  • নিজেকে দোষী, বেকার বা সহায়হীন ভাবা।
  • হবি বা যৌন ক্রিয়া সহ পছন্দের কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
  • ইনসমনিয়া, বেশী সকালে উঠে পড়া বা বেশী ঘুমনো।
  • খিদে এবং ওজন কমে যাওয়া অথবা বেশী খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি।
  • উদ্দীপনা কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং “ধীর গতির” হয়ে যাওয়া। মৃত্যু বা আত্মহত্যা চিন্তা ও চেষ্টা।
  • অধৈর্য, বিরক্তি, মনঃসংযোগে অসুবিধা, ভুলে যাওয়া ও সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।
  • ক্রমাগত শারীরিক লক্ষণ যা চিকিৎসায় কাজ করে না যেমন মাথা ব্যথা, হজমে অসুবিধা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।

অবসাদের শিকার হবার ক্ষেত্রে মানসিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক। যে সমস্ত মানুষের আত্ম বিশ্বাস কম বা নৈরাশ্যবাদীরা বা যারা সহজেই চাপগ্রস্থ হয়ে পড়ে তারা অবসাদের শিকার হতে পারে।

গুরুতর ক্ষতি, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, সম্পর্কে ব্যর্থতা, আর্থিক সমস্যা বা অকাম্য কোন পরিবর্তন হলে অবসাদ ঘটতে পারে। প্রায়শই মানসিক এবং পরিবেশগত কারণের সমন্বয় মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


নিদান ও চিকিৎসা

একটি সম্পুর্ণ শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা, এবং মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ অবসাদের উপস্থিতি এবং তার শ্রেণীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ কিছু ওষুধ এবং নিদানিক অসুস্থতাও অবসাদের কারণ হতে পারে এবং পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা রয়েছে, যা বিশ্লেষণের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে। বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধ এবং মানসিক চিকিৎসা আছে যা অবসাদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন শ্রেণীর অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধ, যেমন ট্রিসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, মোনোঅ্যামিন অক্সিডেস ইনহাইবিটরস (এমএওআইস), লিথিয়াম এবং বিশেষ সেরোটোনিন রিসেপ্টর ইনহাইবিটরস (এসএসআরআই)। কিছু রোগী মানসিক চিকিৎসাতেই ভাল প্রত্যুত্তর দেয় অন্যান্যদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট কাজ করে, কিন্তু সেরা চিকিৎসা বোধহয় উভয়ের মিশ্রণ।

ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপি (ইসিটি) হোল তৃতীয় পদ্ধতি যা জীবনহানীকারী এবং দুরূহ অবসাদগ্রস্থ রোগীদের জন্য ফলদায়ক, যারা অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধ খেতে পারে না এবং ওষুধে তাদের বিশেষ কাজও হয় না।
লক্ষণগত আরাম হলেই অধিকাংশ সময়ে রোগীরা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। কিছু ওষুধ ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হয়, অন্যদিকে বাইপোলার ডিসর্ডার বা দীর্ঘস্থায়ী গুরুতর অবসাদের ক্ষত্রে চিকিৎসা আজীবন চলে।

অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধগুলি অভ্যাস নেশার মতো হয় না, তাই সেই বিষয়ে ভাববার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, বেশ কিছুদিন নিতে পরামর্শ দেওয়া যে কোন ওষুধের ক্ষেত্রেই যেমন হয় সঠিক মাত্রার উপর নজর রাখা খুব জরুরী। বেশ কিছু অ্যান্তিডিপ্রেস্যান্ট অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটায়। তাই নতুন ওষুধ নেবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেওয়া দরকার।

অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট থেকে হালকে এবং অস্থায়ী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে যা বিরক্তিকর কিন্তু গুরুতর নয়। অদ্ভুত এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটালে ডাক্তারকে জানানো উচিত। ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টের সঙ্গে যুক্ত খুব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি হলঃ শুষ্ক মুখ, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, মূত্রাশয়ে অসুবিধা, যৌনসমস্যা, ঝাপসা দৃষ্টি, মাথা ঘোরা বা অসুস্থতা বোধ। নতুন অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অন্যরকমঃ মাথা ধরা, বমি বমি ভাব, আত্মবিশ্বাসের অভাব, ইন্সমনিয়া উগ্রতা ইত্যাদি।

বিভিন্ন ধরণের মানসিক চিকিৎসা আছে অবসাদের। প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতার থেকে পাওয়া সাইকোথেরাপি থেকে প্রভূত সাহায্য হয়। গুরুতর অবসাদ অসুখ, বিশেষত যা বার বার হয়, তার ক্ষেত্রে ওষুধ এবং/ বা সাইকোথেরাপির সঙ্গে ইসিটি সবথেকে কার্যকরী।


অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিকে সাহায্য করা
  • অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তির জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য হল সঠিক নিদান ও চিকিৎসায় সাহায্য করা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করা।
  • অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিকে দোষারোপ করবেন না অসুস্থতা বা অলসতার অভিনয় করছে বলে বা সে ক্ষেত্রে তার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার জন্য তৈরী থাকুন। শেষ পর্যন্ত, সঠিক চিকিৎসার দ্বারা অধিকাংশ অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যান। মনে রাখবেন অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিদের নিয়মিত আত্মবিশ্বাস প্রদান করলে ধীরে ধীরে তারা ভাল অনুভব করতে শুরু করবেন।
  • আত্মহত্যার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
  • উপভোগ করার মতো কাজে অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিকে অংশ নিতে উৎসাহ দিন ওনার সঙ্গে থেকে

কোথায় সাহায্য পাবেন

পারিবারিক ডাক্তার।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শদাতা মানসিক সুস্থতা সম্পর্কিত পরামর্শপ্রদানকারী বেসরকারি সংগঠন এবং হেলপলাইন

  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.