OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

শারীরিক স্বাস্থ্য

মানসিক স্বাস্থ্য

পুষ্টি

রক্তাল্পতা সম্বন্ধীয় হৃদরোগ

হৃৎপিণ্ড হল পাম্প যা বিরামহীনভাবে শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে রক্ত পাম্প করে চলে। এই পাম্পটি পেশী দ্বারা গঠিত এবং নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন এটির সঠিক কাজ করার জন্য। রক্ত সঞ্চালন ঠিক না হলে যে হৃদ রোগ হয় তাকে বলে ইস্কেমিক হৃদরোগ (আইএইচডি)। আই এইচ ডি একটি বহুলঘটিত অসুখ এবং বয়সকালে মৃত্যুর কারণও।

আই এইচ ডির প্রকাশ বিভিন্ন ধরণের হয়ঃ নিঃশ্চুপ অসুখ থেকে হঠাৎ মৃত্যু। কিন্তু সব থেকে বেশী হয় অ্যাঞ্জিনা ( শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বুকে ব্যথা) এবং দুরূহ মায়োকার্ডিয়া ইনফার্কশন (হৃদরোগের আক্রমণ)। যে সকল ধমনী হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে তাদের হঠাৎ রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেলে হৃদ রোগ হয়। অ্যাঞ্জিনা হৃদরোগের আক্রমণের হালকা রূপ। ইস্কেমিক হৃদরোগ রক্তনলিকা সরু হয়ে গিয়ে হয় (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস), একটি রোগ যাতে কোলেস্টেরল (রক্তে ফ্যাট) দেওয়ালের ভিতরে জমা হয়। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস প্রভাবের এই পদ্ধতি মস্তিষ্কের রক্ত নলিকাদের ক্ষতিগ্রস্থ করে ফলে স্ট্রোক হয় এবং লিম্ব ভেসেলে গ্যাংগ্রীণ হতে পারে।

আই এইচ ডি হবার বিভিন্ন ঝুঁকি আছে। এগুলিকে অপরিবর্তনশীল যেমন লিং, বয়স, জাতি(কালো, দক্ষিণ এশীয়) এবং পারিবারিক ইতিহাস এবং পরিবর্তনশীল কারণ যেমন ধূমপান, স্থূলতা, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল স্তর এবং উচ্চ রক্ত চাপ।


অ্যাঞ্জিনা

আঞ্জিনা হল লক্ষ্মণ যা সাধারণত কিছু মিনিট থাকে। আপনার হয়তো বুকে চাপ অনুভব করবেন, শ্বাস রোধ হয়ে আসবে বা বুক জ্বালা, অস্বস্তি হাত, ঘাড় চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কাঁধ, হাত ও কবজি অসাড় হয়ে যেতে পারে।

অ্যাঞ্জিনা সাধারণত হয় যখন আপনি সিঁড়ি চড়ছেন, কিছু ভারী জিনিষ বইছেন, রেগে গেছেন, খুব গরম বা ঠাণ্ডায় কাজ করছেন, জন্য সংসর্গের সময়, মানসিক চাপের সময়, ব্যায়াম করার সময় উপরোক্ত কাজগুলি যেকোন দুটি বা ততোধিকের মিশ্রণে। এই কাজগুলি বন্ধ করলেই বা নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট (সর্বিট্রেট) জিভের নীচে রাখলেই অ্যাঞ্জিনা চলে যায়। অ্যাঞ্জিনার চিহ্নিত করা সবসময় নিদানিক হয়। কিন্তু আপনাকে নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করতে হবে নিশ্চিত হবার জন্যঃ

  • রক্ত পরীক্ষা (কোলেস্টেরল) ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) এক্সারসাইজ ইসিজি (ট্রেডমিল পরীক্ষা)
  • স্ট্রেস থ্যালিয়াম পরীক্ষা রোধযোগ্য ইস্কেমিয়া দেখাবার জন্য
  • কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেসন যা দেখায় ধমনির কোথায় বদ্ধ হয়েছে

আপনার চিকিৎসক আপনাকে হয়তো নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট দেবেন যা আপনাকে জিভের নীচে রাখলে অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেবে। কিছু ব্যক্তির নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট খাবার পর মাথা যন্ত্রণা হয়।

ডাক্তারের পরামর্শ নেবার সময় জিজ্ঞাসা করতে ভুলবেন না যে অ্যাঞ্জিনা হলে কিভাবে নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট ব্যবহার করবেন। অ্যাঞ্জিনা হলে আপনার জীবনশৈলীকে সঠিক করতে হবে। আইসেমিক হৃদরোগের কাছে হেরে যাবার কোন অর্থ হয় না। বরং লড়াই করুন। এটি খুব জরুরী যে আপনিঃ

  • ধূমপান ছেড়ে দিন স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল স্তর নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • হালকা হতে ও চাপ সামলাতে শিকুন।কঠিন কাজ করা বর্জন করুন।
  • অ্যাঞ্জিনার পরিবর্তন হলে ডাক্তার ডাকুন; যেমন যদি বসে থেকেও অ্যাঞ্জিনা হয় বা আরও খারাপ হয়ে যায়।

হৃদরোগের আক্রমণ

হৃদরোগের সবথেকেন সহজ লক্ষ্মণ হল বুকে ব্যথা। এটি অ্যাঞ্জিনার মতই হয় কিন্তু আরও গুরুতর। কিছু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন অ্যাঞ্জিনায় না আক্রান্ত হয়েও। সাধারণত এটি সব থেকে খারাপ বুকের ব্যথা অনুভূত হয়। এ ছাড়াও হৃদরোগের বহিঃপ্রকাশ আরও অনেক রকম হয় যেমন অজ্ঞান হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া। বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডাইবেটিসের রোগীদের মধ্যে বুকে ব্যথা নাও হতে পারে। হৃদরোগ নিশ্চিত করা যায় ইসিজির মাধ্যমে।

আজকাল হৃদরোগ সেরে যায়। নতুন নতুন ওষুধ তৈরী হয়েছে যা ছোট হয়ে আসা রক্ত নলিকা খুলে দিতে পারে। এ ছাড়াও হৃদরোগের আক্রমণের পরেই অস্ত্রোপচার বা অন্য উপায়ে আপনার হৃৎপিণ্ডের রক্ত নলিকা সারানো যেতে পারে। তাহলে ভাল খবর হল খারাপ জিনিস শেষ এবং আপনি শীঘ্রই যা করতেন সব করতে পারবেন।

আপনার জীবনশৈলীতে কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন করার সময় এসেছে। হৃদরোগ আরও খারাপ হতে পারে যদি আপনি নিজের হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখার পদক্ষেপ না নেন। হৃদরোগের আক্রমণের পর, আপনি চিন্তা করতে পারেন। সুস্থ হওয়া এবং নিজের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস আসতে সময় লাগবে। ডাক্তারের কথা শুনে চললে উপকার হবে এবং নিজের হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে পারবেন। এখনো হয়তো অনেকদিন কর্মঠভাবে বাঁচবেন। অধিকাংশ রোগী হৃদরোগের আক্রমণের পর খারাপ অনুভূতি পান। এগুলি খুব স্বাভাবিক এবং বুঝতে অসুবিধা হয় না।


  • আপনার বুকের ব্যথা থেকে মৃত্যুভয় হতে পারে এবং ভয় হতে পারে যে আপনি আর যৌন সংসর্গ করতে পারবেন না বা কাজ করতে পারবেন না।
  • হয়তো রেগে যাবেন এমন ঘটনা আপনার সঙ্গেই ঘটল। .
  • অবসাদগ্রস্থ হতে পারেন "জীবন শেষ" এই ভেবে, আপনি হয়তো আগের মতো থাকবেন না বা অন্যরা আপনাকে দূর্বল মনে করবেন।
  • শুধু আপনি নন আপনার ঘনিষ্ট লোকজনও হৃদরোগের আক্রমণ অনুভব করেন।

কাজে ফিরে যাওয়া

অধিকাংশ ব্যক্তি হৃদরোগের আক্রমণের ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কাজে ফিরে যান। আপনার ডাক্তার কিছু পরীক্ষা করতে বলবেন। কিছু মানুষ নিজের হৃৎপিণ্ডের জন্য আরামদায়ক কাজে পরিবর্তিত হয়।

  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.