OLD AGE SOLUTIONS

Portal on Technology Initiative for Disabled and Elderly
An Initiative of Ministry of Science & Technology (Govt. of India)
Brought to you by All India Institute of Medical Sciences

শারীরিক স্বাস্থ্য


মানসিক স্বাস্থ্য



পুষ্টি



বয়স্কদের পুষ্টি বিষয়ক চিন্তাভাবনা



বয়স্কদের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা



বয়স্কদের জীবনশৈলীর পরিবর্তনকারী ডায়েট নির্দেশিকা



পুষ্টির সম্ভাব্য কম বা বেশী হওয়া



পুষ্টির পরিস্থিতির বিশ্লেষণের পদ্ধতি



বিশেষ অসুখের ক্ষেত্রে ডায়েট নিয়ন্ত্রণ



খাদ্য পিরামিড



কিভাবে একটি সহজ ডায়েট বানানো যায়



বৃদ্ধ বয়সে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের নির্দেশিকা


পুষ্টির সম্ভাব্য কম বা বেশী হওয়া

গড় পুষ্টির গ্রহণের তথ্য পরামর্শ দেয় যে বয়স্ক মানুষরা যদি সঠিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, লোহা, ই, কে, পটাসিয়াম এবং তন্তু গ্রহণ না করেন তাহলে যথেষ্ট পুষ্টি গ্রহণ নাও করতে পারেন।


ক্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং তা সঠিকভাবে শোষণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। সাম্প্রতিক গবেষণা ক্যালসিয়ামের অভাব এবং অস্টিয়োপোরোসিস, যা হোল হজম সংক্রান্ত হাড়ের অসুখ যাতে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য কম হয় এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, তাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করয়েছে। আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের বিভিন্ন ফ্যাক্টরগুলি হল সূর্যালোক, খাদ্য সংক্রান্তও ল্যাক্টোস, ডায়েটারি তন্তু এবং প্রোটিন নেবার মাত্রা যা ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণ অনুপাত বাড়িয়ে দেয়। ক্যালসিয়াম উদ্ভিজ ও পশুজ খাদ্য উভয়েই আছে। দুধ এবং দুগ্ধজাত পদার্থ (বাটারমিল্ক, দুধ এবং চিজ) ক্যালসিয়ামের দারুণ উৎস। উদ্ভিজ খাদ্যের মধ্যে সবুজ পাতাওলা সবজি, আমারান্থ, মেথি এবং ডাঁটা ক্যালসিয়াম ভরপুর এবং মূলজাত সবজির মধ্যে ট্যাপিওকায় প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। ভাতে ক্যালসিয়াম কম আছে কিন্তু মিলেট রাগিতে ক্যালসিয়াম প্রচুর আছে। বাদাম এবং তৈলবীজের মধ্যে তিলে ক্যালসিয়াম আছে। অধিক পরিমাণে দুগ্ধজাত পদার্থ খাওয়ায় বাধা দেয় ল্যাক্টোস সহ্য করার ক্ষমতা কম হওয়া।


ভিটামিন ডি

বয়স্ক ব্যক্তিদের সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ডি প্রয়োজনীয়তা না মেটার ঝুঁকি থেকেই যায় কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের শোষণ ক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়াও, ওজন বেড়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ব্যক্তিদের শারীরিক ফ্যাট বেড়ে যাবার ফলে জৈব পদার্থ আহরণ ক্ষমতা কমে যায়। প্রকৃতিতে ভিটামিন ডি থাকা খাদ্য থাকে। মাছ (স্যামন, টুনা এবং ক্যাকারেল) মাছের তেল এর সেরা উৎস। গরুর মেটে, চিজ এবং দুধের কুসুমে কম পরিমাণ ফিটামিন ডি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি৩ (কোলেক্যালসিফেরোল) এবং মেটাবোলাইট ২৫ (ওএইচ)ডি৩ থাকে। কিছু মাশরুমে ভিটামিন ডি২ (এর্গোক্যালসিফেরোল) থাকে বিভিন্ন পরিমাণে।


লোহা

শারীরবৃত্তীয় তথ্য (যেমন বাড় বন্ধ হওয়া এবং ঋতুচক্র) এবং মহিলাদের মধ্যে শারীরিক লোহার সঞ্চয় দেখায় যে লোহার প্রয়োজনীয়তা ৫১ বছর বয়সের পরে কমে যায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বয়স্কদের লোহার অভাব দেখা দেয়। বয়স্করা কম লাল মাংস খান যা লোহার খুব ভাল উৎস। চিবোতে অসুবিধা এবং অর্থনৈতিক ফ্যাক্টর লোহার গ্রহণ কম করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। লোহার শোষণ গ্যাস্ট্রিক এইচসিআই নিঃস্বরণ কম হওয়াতেও হতে পারে বা শোষণ কম হওয়া থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক উদর সম্বন্ধীয় শোষণ সমস্যাজাত অসুক হতে পারে।


তন্তু

উচ্চ তন্তুযুক্ত খাবারে শক্তি কম থাকে এবং ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ফাইটোকেমিক্যালস বেশী থাকে। বয়স্কদের জন্য তন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর পদার্থা কারণ হজম ব্যবস্থা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পরে। তন্তু সম্বলিত খাদ্য, নিয়মটি ক্রিয়াকলাপ প্রচুর জল খাবার সঙ্গে একসঙ্গে গ্রহণ করলে পেট ভাল থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনন্দিন তন্তু গ্রহণের মাত্রা হোল ৩০-৪০ গ্রাম।


যে সকল খাদ্যে ভাল ডায়েটারি তন্তু আছে তা হলঃ

  • দানাশস্য এবং ডাল, বিশেষত, পূর্ণ দানাশস্য।

  • ফল এবং সবজি

  • বাদাম


সম্ভাব্য অতিরিক্ত গ্রহণকৃত পুষ্টিকর পদার্থ
ফলিক অ্যাসিড

৬৫ বছরের উর্ধে বয়স যাদের তাদের আরডি এ হোল ৩০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি দিন। ফলেট গ্রহণে কম হলে মেগালোব্ল্যাস্টিক অ্যানিমিয়া ও ম্যাক্রোসাইটোসিস হতে পারে। ফলেটের ডায়েট সম্বন্ধী উৎস হল সবজি, মেটে এবং কিডনি। অতিরিক্ত রান্না করলে বা ভুলল খাদ্য যেমন চা ও টোস্ট খাবার ফলে ফলেট নষ্ট হয়ে যায়। সংস্থাগত বা হাসপাতালে ভর্তি বয়স্ক ব্যক্তিদের ফলেট গ্রহণ কমে যেতে পারে। এটি মনে রাখা খুবই দরকার যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বি১২-র সেরাম স্তর কমে যায়। বি১২-র নিম্ন সেরাম স্তর কম শোষণের সঙ্গে যুক্ত। ফলিক অ্যাসিড অতিরিক্ত ভাবে বেশী নিলে এবং গভিটামিন বি১২-র অভাব ঘটলে বি১২-র অভাবের স্নায়ুতান্ত্রিক লক্ষণ দেখা যায় না।


সোডিয়াম

বয়স্কদের মধ্যে স্বাদ ও গন্ধের ক্ষমতা কমে যায়। সেই কারণেই হয়তো তারা খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত নুন ব্যবহার করে।

ওডেমা বা তরল সংরক্ষণ বেশী নুন খেলে হতে পারে এবং বয়সকালে বেশী হয়। নুন খাওয়া কমালে তরল সংরক্ষণ কম হবে এবং যে সকল রোগীর হৃদরোগ, নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম বা বৃক্কের সিরোসিস হয়েছে তাদের নুন কমালে উপকার হবে।


জল

দ্রাঘিমা সংক্রান্ত অধ্যয়ন অনুযায়ী পুরুষদের মধ্যে ৬৫ বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪০ বা ৫০ বছর পর্যন্ত সামগ্রিক শারীরিক জলস্তরে কোন পরিবর্তন হয় না। বয়স্কদের মধ্যে তরল এবং ইলেক্ট্রোলাইটের বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হল ডিহাইড্রেশন। তৃষ্ণা না পাওয়া এবং তরল কম গ্রহণ করা এবং বৃক্কের দ্বারা তরল পরিবর্তন কম করা ডিহাইড্রেশনের মূল কারণ। ডাইউরেটিক্স এবং ল্যাক্সেটিভ তরল খুব দ্রুত কম করায়। যথেষ্ট জল গ্রহণ করার পরিমাণ ৩০ থেক ৩৫ মিলি/ কিগ্রা। বয়স্ক ব্যক্তিরা অবশ্যই ৬ থেকে ৮ গ্লাস জল খাবেন যা থেকে তাদের মূত্র ত্যাগ প্রতিদিন ৬ কাপ হতে পারে। হাইড্রেটেড অবস্থ্যাকে সঠিক ভাবে বর্ণনা করা যায় না। রক্তের সান্দ্রতা দিয়ে হাইড্রেসন অবস্থা বোঝা যায়। এটি নিয়ন্ত্রী হয় সাধারণত ২৮৪মি অস্মোল/ কিগ্রা ( বয়স্কদের মধ্যে ১-২% বৃদ্ধি হয়)


যথেষ্ট তরলিত থাকার টিপসঃ

  • সারাদিন ধরে নিয়মিত জল খান, প্রতি মিল এবং স্ন্যাকের সঙ্গে একটি তরল পান করুন।
  • তরলের সব থেকে ভাল উৎস হল জল, ফলের রস, দুধ, মিনারেল ওয়াটার এবং ডাবের জল, ছাঁচ, লেবু জল ইত্যাদি।
  • অ্যাল্কোহল পানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন কারণ বেশী পান করলে শুকিয়ে যেতে পারেন।
  • কোলা, চা এবং কফি পান নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • বেশী তরল সম্বলিত খাদ্য যেমন ফল, সবজি, সুপ, দই, লসসি, পায়েস, কাস্টার্ড এবং আইসক্রিম খান।

  Copyright 2015-AIIMS. All Rights reserved Visitor No. - Website Hit Counter Powered by VMC Management Consulting Pvt. Ltd.